বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনজন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। রবিবার (২২ জুন ২০২৫) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসন ব্যবহার করে 'দিনের ভোট রাতে' করা হয়েছে—এমন অভিযোগেই এই মামলা।
মো. সালাহ উদ্দিন খান
পদবী: বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী
কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ (সাবেক সিইসি)
মো. আব্দুল মোবারক (সাবেক ইসি)
আবু হানিফ (সাবেক ইসি)
জাবেদ আলী (সাবেক ইসি, ব্রিগেডিয়ার অব.)
শাহ নেওয়াজ (সাবেক ইসি)
আসাদুজ্জামান খান কামাল (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
হাসান মাহমুদ খন্দকার (সাবেক আইজিপি)
এ কে এম নুরুল হুদা (সাবেক সিইসি)
রফিকুল ইসলাম (সাবেক ইসি)
কবিতা খানম (সাবেক ইসি)
শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (সাবেক ইসি, ব্রিগেডিয়ার অব.)
জাবেদ পাটোয়ারী (সাবেক আইজিপি)
বেনজীর আহমেদ (সাবেক আইজিপি)
এ কে এম শহীদুল হক (সাবেক আইজিপি)
মো. মনিরুল ইসলাম (সাবেক এসবি প্রধান)
সাবেক ডিজিএফআই প্রধান (নাম প্রকাশ হয়নি)
সাবেক এনএসআই প্রধান (নাম প্রকাশ হয়নি)
সৈয়দ নুরুল আলম (সাবেক ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ)
বাদী বলেন—
“তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দলীয় সরকারের অধীনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সরকার দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করেছে। এজন্য আমরা শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছি।”
তিনি আরও জানান—
২০১৮ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল
সেই অভিযোগে নিষ্ক্রিয়তা ও দায় ছিল ইসির, যা সংবিধান লঙ্ঘন
ঐ চিঠি ও আলামতের ছায়ালিপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. ইমাউল হক জানান—
“মামলার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইন অনুযায়ী, বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আসবে কিনা—তা নির্ভর করবে পুলিশ ও প্রসিকিউশন বিভাগে প্রাথমিক যাচাইয়ের ওপর।
বাংলাদেশে বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলগুলোর মূল অভিযোগগুলো হলো:
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব
প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ
ভোটার বিহীন কেন্দ্র ও ভুয়া ভোট গণনা
নিরপেক্ষ সরকারের অনুপস্থিতি
বিএনপি সবসময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়ে আসছে। এসব প্রেক্ষাপটে এবার মামলা দায়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এটি একটি প্রতীকী রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মামলার ফলে প্রশাসনের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, যদি আদালত প্রাথমিক গ্রহণযোগ্যতা দেয়
একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে নতুন এক সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে
মামলা গৃহীত হলে সাবেক শীর্ষ ব্যক্তিদের আইনি প্রশ্নবিদ্ধতা তৈরি হবে
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সংস্কারের জন্য আদালতের পর্যবেক্ষণ পাওয়া যাবে
রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
মামলাটি হয়তো দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারে
বিএনপির দায়ের করা এই মামলা শুধু ১৯ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এটি একপ্রকার রাষ্ট্রীয় নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনের ‘অসাংবিধানিক পরিচালনা’ অভিযোগ এনে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক দাবিকে আইনি রূপ দিতে চাইছে।
বিচারিক কর্তৃপক্ষ কীভাবে এটি গ্রহণ করে, তাই এখন দেখার বিষয়।
Q1: মামলার প্রধান আসামি কে?
→ শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
Q2: মামলার মূল অভিযোগ কী?
→ ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অনিয়ম।
Q3: মামলা কোথায় দায়ের করা হয়েছে?
→ শেরেবাংলা নগর থানায়।
Q4: মোট কতজনকে আসামি করা হয়েছে?
→ ১৯ জন নাম উল্লেখ করে, আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।
Q5: মামলা গ্রহণযোগ্য হবে কি না?
→ পুলিশের পর্যালোচনা ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |