প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং নাটকীয় মোড় শেষে অবশেষে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও হেভিওয়েট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে তিনি আজ রোববার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) বিজয়ী হয়েছেন।
মনোনয়ন বাতিল ও নেপথ্যের ঘটনা গত ২ জানুয়ারি হলফনামায় তথ্যের অসঙ্গতি ও ব্যাংক ঋণের অজুহাতে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে মান্না শুরু থেকেই একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। আজ ১১ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
বক্তব্যের শুরুতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে মান্না বলেন, "মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। আমি আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে এই কূটকৌশল ধোপে টিকবে না।"
ব্যাংক ঋণ ও ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস প্রার্থিতা বাতিলের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার একটি কথিত খেলাপি ঋণের নোটিশ। এ প্রসঙ্গে মান্না বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে বলেন, ওই কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এই সত্যটি সচেতনভাবে আড়ালে রাখা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বগুড়া বরাবরই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে মাহমুদুর রহমান মান্নার ছাত্রনেতা হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বগুড়ার আসনগুলো সবসময়ই আলোচনার তুঙ্গে থাকে। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন (২০২৬) পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় মাহমুদুর রহমান মান্না একজন নীতিবান ও স্পষ্টবাদী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বক্তব্যে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার মান্না আক্ষেপ করে বলেন, "রক্ত দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। ক্ষমতার লোভে কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা করা রাজনীতি নয়। দল বা ব্যক্তি যত বড়ই হোক, দেশের মানুষের কাছে সবাই ছোট। এই মানসিকতা না থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না।"
বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যেহেতু তাকে আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল, তাই জোটের স্বার্থে বিএনপি তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন এখনো সেভাবে প্রো-অ্যাকটিভ নয়, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়।
সূত্র: ১. নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল শুনানি রায় রেকর্ড (১১ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন ও রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |