যখন দৃষ্টি সবার আকাশপথে—ঠিক তখনই গোপনে ইরানের অভ্যন্তরে স্থলপথ থেকে শুরু হয়েছিল ইসরায়েলের এক বহুমাত্রিক অভিযান। গোয়েন্দা সূত্র ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল বহু বছর ধরে পরিকল্পিত এক সুসংগঠিত হামলা, যার মূল কারিগর ছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।
ইসরায়েল বহুদিন ধরেই ইরানে অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এজেন্টদের দিয়ে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক গঠন, অস্ত্র চোরাচালান এবং স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে তারা হামলার ভিত্তি তৈরি করে।
ইরান দাবি করেছে, তেহরানে তিনতলা একটি ভবনে আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির ঘাঁটি পাওয়া গেছে।
ইরাক হয়ে ছোট যন্ত্রাংশ ইরানে পাচার করে গোপনে ড্রোন ও স্মার্ট অস্ত্র তৈরি করা হয়।
স্থানীয় কর্মশালায় থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ডিভাইস তৈরি হয়েছিল।
ইরানি পুলিশের মতে:
১৬ জুন তেহরানে অভিযান চালিয়ে মোসাদ সংশ্লিষ্ট ২ এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ২০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক, ২৩টি ড্রোন যন্ত্রাংশ ও একটি গাড়ি।
ইসফাহানে ধরা পড়ে মাইক্রো ড্রোন তৈরির বিশাল উপকরণ।
এ হামলার বিশেষত্ব:
রিমোট কন্ট্রোলড ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট-গাইডেড স্পাইক মিসাইল ব্যবহার।
স্মার্ট অস্ত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও স্থাপনা টার্গেট করা হয়।
মোসাদই এসব অস্ত্র পরিচালনা করেছে বলে দাবি ইরানের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ধরণের স্মার্ট অস্ত্র ২০২০ সালে ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী ফাখরিজাদেকে হত্যা করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে—
আক্রমণের প্রথম ধাপ ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেঙে ফেলা।
ব্যবহার করা হয় আত্মঘাতী ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, এবং ক্ষেপণাস্ত্র।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধানসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা ছিলেন নিশানায়।
এর ফলে তেহরানে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভঙ্গের ইঙ্গিত দেয়।
এই অপারেশন শুধু সামরিক না, বরং ইরানের গোয়েন্দা, সাইবার এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তাতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।
ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করা হচ্ছে।
ইসরায়েল এখনো সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও প্রমাণ ও ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি, প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |