| বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা জুট প্রকল্পে ২% অগ্রগতি, ব্যয় ৫০০ কোটি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-06-2025 ইং
  • 6071975 বার পঠিত
শেখ হাসিনা জুট প্রকল্পে ২% অগ্রগতি, ব্যয় ৫০০ কোটি
ছবির ক্যাপশন: শেখ হাসিনা জুট প্রকল্পে ২% অগ্রগতি

শেখ হাসিনা স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল প্রকল্পে মাত্র ২% অগ্রগতি, ব্যয় ৫০০ কোটি টাকা ছাড়াল

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নেওয়া ‘শেখ হাসিনা স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল মিল’ নামের একটি মেগা প্রকল্পে হয়েছে মাত্র ২.১১% কাজ, অথচ ইতোমধ্যেই ব্যয় হয়ে গেছে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে অনুমোদনের বাইরে প্রায় ২৮ কোটি টাকার কাজ হয়েছে—যার কোনো চুক্তিপত্র বা অনুমোদনের কাগজপত্রই নেই। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রকল্পে অগ্রগতি না থাকলেও কেন এমন ব্যয়?

মূল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫১৮ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২.১১% এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭%। এর মধ্যেই সংশোধিত প্রকল্পের নামে আবার ৩৯.৮২ কোটি টাকার আরেকটি ব্যয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অথচ প্রকল্পটি কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার কথা ২০২০ সালেই জানানো হয়েছিল।

অনুমোদনের বাইরে ২৮ কোটি টাকা খরচ!

প্রকল্প অনুযায়ী জমি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্প এলাকায় বাস্তবে মাটি উন্নয়ন হয়েছে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার, যার প্রকৃত খরচ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা—মানে প্রায় ছয় গুণ বেশি! অথচ এই কাজের জন্য কোনো কার্যাদেশ বা চুক্তিপত্রই ছিল না।

প্রকল্প কোথায়, ব্যয় কোথায়?

এখানেই শেষ নয়। প্রকল্পটি যেখানে হওয়ার কথা ছিল জামালপুরে, সেখানে শেষ আরডিপিপিতে প্রকল্প এলাকা দেখানো হয়েছে ঢাকার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস এলাকায়। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখে পিইসি কর্মকর্তারাও প্রশ্ন তুলেছেন: “এটা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, না ইচ্ছাকৃত দুর্নীতি?”

প্রশ্ন উঠেছে ৩৯ কোটি টাকার নতুন ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে

২০২৩ সালে নতুন করে পাঠানো আরডিপিপিতে দেখা যায়, আগের ১০ কোটি টাকার প্রস্তাব বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকার বেশি। অথচ প্রকল্পের কাজ বন্ধ, অগ্রগতি নেই, কার্যক্রম স্থগিত—তবুও এই বাড়তি ব্যয়ের ভিত্তি কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটের ক্লাসিক কেস

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, “এই প্রকল্পটি কোনো বিলম্বিত সমাপ্তি নয়। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বড় উদাহরণ।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রক্রিয়া সংস্কার না করলে উন্নয়ন খরচই ভবিষ্যতে জাতির বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।”

জনগণের অর্থ গেল কোথায়?

পিইসি সভায় একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে—এই অতিরিক্ত ২৯ কোটি টাকার মূল প্রাপক কারা? এই টাকা কি সরকারি খাতে ব্যবহৃত হয়েছে, না গায়েব হয়ে গেছে কিছু প্রভাবশালী মহলের পকেটে?

উপসংহার:
এই ধরনের প্রকল্প অনিয়ম প্রমাণ করে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। সরকারের উচিত এসব ব্যয়ের ব্যাপারে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency