জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ফ্রানচেস্কা আলবানিজে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, বর্ণবৈষম্য এবং গণহত্যার আর্থিক সহায়তা ও লাভবান হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ৬০টির বেশি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন, যারা ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি এবং সামরিক দমননীতির সাথে গভীরভাবে জড়িত এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করছে।
এ প্রতিবেদনে গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটসহ নামী ৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যারা ইসরায়েলের গণহত্যা এবং দখলদার অর্থনীতির সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। আলবানিজে জানান, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অস্ত্র প্রস্তুতকারী এবং বিগ টেক কম্পানিগুলোর জন্য আদর্শ পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ইসরায়েলের দখলদারিত্বের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন ভূমি অস্ত্র, প্রযুক্তি এবং নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এলবিট সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন, ক্যাটারপিলার এবং এইচডি হুন্ডাই-এর মতো বড় কোম্পানিগুলোর পণ্য বেআইনি ইসরায়েলি বসতি নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এখন একটি 'অনন্য পরীক্ষাগার' হিসেবে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দমন আরও স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সামরিক ক্লাউড সিস্টেম যখন ওভারলোড হয়ে যায়, তখন গুগল, অ্যামাজন, এবং মাইক্রোসফট তাদের ক্লাউড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অবকাঠামো সরবরাহ করেছিল।
এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হলো:
এলবিট সিস্টেমস
লকহিড মার্টিন
ক্যাটারপিলার
এইচডি হুন্ডাই
মাইক্রোসফট
গুগল
অ্যামাজন
এগুলো হল এমন প্রতিষ্ঠান যাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং বসতি নির্মাণে সহায়তা পাচ্ছে।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি করা এআই সিস্টেমগুলি গাজার যুদ্ধের সময় লক্ষ্য নির্ধারণ ও আক্রমণ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া, প্যালান্টির টেকনোলজিস ইনকর্পোরেটেডের সঙ্গে ইসরায়েলের সহযোগিতা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে।
এলবিট সিস্টেমস এবং লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানায় যে, তাদের অস্ত্র বিক্রি সরকার থেকে সরকার লেনদেনের মাধ্যমে হয় এবং এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ সংস্থা জানাবে। ৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে এই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, তবে ১৫টি প্রতিষ্ঠান সাড়া দিলেও তাদের জবাব প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্ববাজারে, গাজার ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর তেলআবিব স্টক এক্সচেঞ্জের বাজারমূল্য ১৭৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন বাজারমূল্য হিসেবে ১৫৭.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ হয়েছে। এই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ফ্রানচেস্কা আলবানিজে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি দাবি জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
আলবানিজে জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং জাতীয় আদালতগুলোর উচিত এসব কর্পোরেট নির্বাহীদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার করা, কারণ তারা আন্তর্জাতিক অপরাধে অংশগ্রহণ করেছে এবং সেই অপরাধের আয় লন্ডারিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি একদিকে যেমন কর্পোরেট স্বার্থ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনি এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ব্যবসায়িক নৈতিকতার মধ্যে সম্পর্ক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ব্যবসার কাঠামোতে বিপুল পরিবর্তন আনবে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |