| বঙ্গাব্দ

আমির খসরু: নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, বদল আসুক জনগণের মালিকানায়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-07-2025 ইং
  • 3615785 বার পঠিত
আমির খসরু: নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, বদল আসুক জনগণের মালিকানায়
ছবির ক্যাপশন: আমির খসরু

নির্বাচনের পথে বিভাজন নয়, জনগণের মালিকানা হোক মূল কথা: আমির খসরু

“যারা নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায়, তারা যেন প্রেসার গ্রুপ হিসেবেই থাকেন। নির্বাচন পেছাতে বা প্রক্রিয়া ধ্বংস করতে এলে চলবে না।”
— এভাবেই জাতীয় প্রেসক্লাবে স্পষ্ট বার্তা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত ‘অপূর্ণ জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আমির খসরু তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং পরিবর্তনের মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।


নির্বাচনী প্রক্রিয়ার হুমকি নিয়ে উদ্বেগ

আমির খসরুর মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু দল ও জোট নির্বাচনের পরিবর্তে আন্দোলন ও বয়কটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা গণতন্ত্রকে নয় বরং প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন—

“আপনারা প্রেসার গ্রুপ হিসাবেই থাকুন, কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না।”

এ বক্তব্যে বোঝা যায়, বিএনপি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে তা হতে হবে জনগণের মালিকানাভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ঐকমত্যে।


পরিবর্তনের দায় জনগণের হাতে

খসরু আরও বলেন—
“পরিবর্তন জনগণের মালিকানায় আসতে হবে। কোনো কমিশন বা ঢাকায় বসে থাকা ব্যক্তিরা দেশের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিকেন্দ্রীকরণ ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জোর দিয়ে বলেন। তার মতে, কেবল রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল নয়—জনগণই হতে হবে চূড়ান্ত নিয়ামক।


জাতীয় ঐকমত্য ও গণতন্ত্রায়ণের আহ্বান

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জাতীয় ঐকমত্যের গুরুত্ব
খসরু বলেন—
“আমরা বাকশাল করতে বসি নাই। যতটুকু ঐক্যমত সম্ভব, সেটা অর্জন করেই এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে বলেন, আসুন একটা ন্যূনতম একমত হই, তারপর নির্বাচন হোক।
এই প্রসঙ্গে তিনি শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠারও দাবি তোলেন।


সভায় অন্যদের বক্তব্য

সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, যিনি বলেন—

“ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েই জনমনে সন্দেহ আছে। সরকার যেভাবে বলছে, আদৌ সেভাবে হবে কিনা বলা মুশকিল।”

অন্যান্য আলোচকরা ছিলেন:

  • সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)

  • সুব্রত চৌধুরী (গণফোরাম)

  • মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য)

  • হাসনাত কাইয়ুম (রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন)

  • জহির উদ্দিন স্বপন (বিএনপি)

  • রাজেকুজ্জামান রতন (বাসদ)

  • রুহিন হোসেন প্রিন্স (সিপিবি)

এই সকল বক্তাদের বক্তব্যেও নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব উঠে আসে।


বিশ্লেষণ: বিএনপি কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়?

আমির খসরুর বক্তব্য পরিস্কারভাবে ইঙ্গিত দেয়, বিএনপি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়—
তবে সেটি হতে হবে গণভিত্তিক, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশে।

এক্ষেত্রে যারা আন্দোলনের নামে নির্বাচন পেছাতে বা ভেঙে ফেলতে চান, তাদের প্রতিও ছিল স্পষ্ট বার্তা—
তারা যেন গণতন্ত্রের ধারায় থেকে চাপ সৃষ্টি করেন, কিন্তু প্রক্রিয়াকে ধ্বংস না করেন।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency