আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক নৈশভোজে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাতে অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “বিমানগুলোকে আকাশেই গুলি করা হয়েছিল। পাঁচটি, পাঁচটি...হয়তো চারটি...তবে আমার মনে হয় প্রকৃতপক্ষে পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়।”
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, যখন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় একটি ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, যদিও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানায়।
পেহেলগামের ঘটনার পর, ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ‘জঙ্গি ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানও পাল্টা হামলার মাধ্যমে জবাব দেয়। দু’দেশের মধ্যে ঘটে ঘণ্টাব্যাপী আকাশযুদ্ধ, যা দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ বলে মনে করা হয়।
এই সংঘাতে কতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষ ভিন্ন দাবি করছে:
পাকিস্তানের দাবি, তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
ভারতের দাবি, তারা “কিছু পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান” গুলি করে নামিয়েছে।
পাকিস্তান অবশ্য নিজেদের কোনো বিমান হারানোর কথা অস্বীকার করেছে, কিন্তু স্বীকার করেছে যে, তাদের একাধিক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একজন ভারতীয় জেনারেল মে মাসের শেষে বলেন, সংঘাতের প্রথম দিন আকাশে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার পর ভারত কৌশলগতভাবে পেছনে সরে এসে পুনর্বিন্যাস করে এবং অস্ত্রবিরতির আগ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান মজবুত করে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ১০ মে তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভারত-পাকিস্তান অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেন এবং এটি তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল।
তবে ভারত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়া দিল্লি জানিয়েছে, এই অস্ত্রবিরতি দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ফল, তৃতীয় কোনো পক্ষ এতে মধ্যস্থতা করেনি।
ভারতের অবস্থান পরিষ্কার—পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তারা তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না।
এই সংঘাতের পটভূমিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব:
যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রভাব মোকাবেলায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
অপরদিকে, পাকিস্তান বহুদিনের সামরিক মিত্র, বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে।
এই দ্বৈত সম্পর্কের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
জঙ্গি হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র “দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট” (TRF)-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ভারতের দাবি, TRF আসলে লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা সংগঠন, যারা এপ্রিলের হামলায় সরাসরি জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেনি, কিন্তু TRF-কে নিষিদ্ধ করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক হর্ষ পন্ত মনে করেন,
“ট্রাম্প নিজেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির হিরো বানাতে চাচ্ছেন। বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। ভারত ও পাকিস্তান নিজেরাই অস্ত্রবিরতির পথ খুঁজে নিয়েছে।”
পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হামিদ মীর বলেন,
“ভারত-পাকিস্তানের সমস্যা এমন নয় যে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় সমাধান হবে। বরং সেটা জটিলতাই বাড়াবে।”
এই সংঘাত ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে:
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনো মারাত্মক মাত্রায় রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায় না, ভারত বা পাকিস্তান কেউ চীন বা রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ুক—এই উদ্বেগ থেকেই মার্কিন কূটনীতি সক্রিয় হচ্ছে।
ভারত বরাবরই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলতে চায়, যা ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথে বাধা হতে পারে।
ট্রাম্পের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বক্তব্য একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, তবে এতে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার বাস্তবতা হালকা হয় না। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিহাস ও ভৌগলিক অবস্থান এমন যে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা বরাবরই থাকে।
অস্ত্রবিরতির বাস্তব রূপরেখা তৈরি করতে হলে উভয় দেশকেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য দেখাতে হবে—আর বাইরের চাপের চেয়ে, অভ্যন্তরীণ সংলাপেই এর সুরাহা সম্ভব।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |