আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
ইরানে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় গোরগান শহরের একটি কারাগারে শনিবার সকালে এই সাজা কার্যকর করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের বিচার বিভাগ, যা এক বিবৃতির মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশ করে।
স্থানীয় বিচার বিভাগের প্রধান হায়দার আসিয়াবি জানান, অভিযুক্তরা তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি চক্রের সদস্য ছিল। এদের বিরুদ্ধে তিন নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ ছিল, যা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হয়।
তিনি বলেন, “তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আজ সকালে গোরগানের একটি কারাগারে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।” তবে তাদের নাম, পরিচয় বা ধর্ষণের ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ইরানে ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত বিচার ও শাস্তির নজির রয়েছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ, হত্যা, সশস্ত্র ডাকাতি, মাদক চোরাচালান এবং রাষ্ট্রদ্রোহ—এই অপরাধগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এই বিচারপ্রক্রিয়াগুলোতে অনেক সময় যথাযথ স্বচ্ছতা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত হয় না। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, “জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে মৃত্যুদণ্ড প্রথা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের মতে:
ইরান বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ, চীনের পরেই।
২০২৩ সালে ইরানে কমপক্ষে ৬৫০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় বলে দাবি করেছে Amnesty।
এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ প্রমাণে সন্দেহ, জবানবন্দিতে নির্যাতন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট—“ধর্ষণ ও হত্যা সমাজের জন্য ভয়াবহ অপরাধ, এসব অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই অপরাধ দমন করতে পারে।”
ধর্ষণের মামলাগুলোতে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী উভয়ের পরিচয় সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তাইও গোরগানের এই ঘটনার ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগী নারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, "ভুক্তভোগী নারীদের সম্মান রক্ষায় গণমাধ্যমে অপরাধীর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।"
এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয় ইসলামিক আইন ও বিচারব্যবস্থার নীতিমালার অংশ হিসেবে, যদিও সমালোচকরা বলেন, এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হুমকির মুখে পড়ে।
ইরানে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে:
কঠোর শাস্তিমূলক আইন প্রয়োগে জোর দেওয়া হয়।
ধর্ষণকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে গণ্য করা হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এসব অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, কেবল শাস্তি নয়, প্রতিরোধমূলক শিক্ষার অভাব এবং নারী অধিকার নিশ্চিত না করা বড় সমস্যা।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি:
“বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের পর্যাপ্ত আইনজীবী পেতে সমস্যা হয়।”
“ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলায় অপরাধ প্রমাণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না।”
“রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধীর শাস্তির চেয়ে, কখনো কখনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়।”
তবে ইরান বলছে, “ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমালোচনার পরোয়া না করেই নিজেদের আইন প্রয়োগ করা হবে।”
এই তিন অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড শনিবার সকালে গোরগানের একটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দিয়ে কার্যকর করা হয়।
ফাঁসি ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি, যা সাধারণত ভোরের দিকে সম্পন্ন করা হয়। এতে অভিযুক্তদের পরিবারকে আগে থেকেই জানানো হয় বা কখনো জানানো হয় না—এও একটি বিতর্কের বিষয়।
ইরানি সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
কেউ কেউ বলছেন, “এটাই হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।”
আবার কেউ বলছেন, “কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যদি ভুল রায়ে প্রাণ হারায়, তখন রাষ্ট্র তার দায় নেবে কি?”
এই বিভক্তি ইঙ্গিত করে, আইনের কঠোরতা এবং মানবাধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন ইরানে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |