প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেবিদ্বার (কুমিল্লা): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো থেকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া মূলত জনগণের অর্থ আত্মসাতের একটি আইনি বন্দোবস্ত মাত্র। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফাতেহাবাদ এলাকায় এক উঠান বৈঠক ও আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমরা অনেক নতুন কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। যারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা মেরে দিচ্ছে, তারা সংসদে গিয়ে মূলত নিজেদের ঋণ যেন দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থাপনাই করবে। ব্যালটের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণখেলাপিদের 'না' বলতে হবে।”
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের দাপট এক দীর্ঘস্থায়ী সংকট। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়:
১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে রাজনীতি ছিল মূলত আদর্শভিত্তিক। ১৯৪৬ বা ১৯৭০-এর নির্বাচনে প্রার্থীদের সততা ছিল প্রধান মাপকাঠি। তবে রাজনৈতিক শোষণের বীজ তখনই বপন হয়েছিল।
স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশ (১৯৭১-১৯৯০): স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-এর প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত অর্থশক্তির দাপট তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু নব্বই পরবর্তী গণতান্ত্রিক যুগে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ এবং ব্যাংক ঋণের অপব্যবহার বাড়তে শুরু করে।
২০২৪-২০২৬ (বর্তমান ক্রান্তিকাল): ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে এক নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। ২০২৫ সালটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের বছর। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল সৎ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী। কিন্তু হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ঋণখেলাপিদের মোহ ত্যাগ করতে পারেনি।
দেবিদ্বারে প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, “সংসদ সদস্য হয়ে তারা আবার যেন ঋণগুলোকে মেরে দিতে পারে, সেই ধরনের আইন ওরা বানাবে। দেশের টাকা রক্ষা করার দায়িত্ব এখন আপনাদের (ভোটারদের) হাতে।” তিনি আরও জানান, এনসিপি সংস্কারের পক্ষে থাকা শক্তির সাথে রাজপথে আছে এবং থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে নেতৃত্বের ধরন অনেক বদলেছে। আগে যেখানে আদর্শই ছিল শেষ কথা, এখন সেখানে অর্থশক্তি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য মূলত বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক সাহসী ব্যবচ্ছেদ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও আইনি ফাঁকফোকর গলে তাদের মনোনয়ন পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করছে।
বিশ্লেষণ: হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য সরাসরি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়ার দিকে আঙুল তুলেছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশ—পরিবর্তন অনেক হয়েছে, কিন্তু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় 'কালো টাকা' ও 'ঋণখেলাপি'দের প্রভাব আজও মুক্ত করা যায়নি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং এটি সংসদের ভেতর ঋণখেলাপিদের প্রভাব বন্ধ করার লড়াইও বটে। এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর এই ডাক সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: * এনসিপির দেবিদ্বার উঠান বৈঠকের বক্তব্য (৭ জানুয়ারি, ২০২৬)।
নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক (ঋণখেলাপি সংক্রান্ত প্রতিবেদন)।
জাতীয় আর্কাইভ ও বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক দলিল।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |