ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে দলটি ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার, মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগরীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন:
“আমরা শহীদদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। আমরা তাদের কল্যাণে কাজ করবো, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখবো। আমাদের সামনে আরও একটি লড়াই—দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এই লড়াইয়ে সফল হবো।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এমপিরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বা রাষ্ট্রীয় ফ্ল্যাট নেবেন না, যা রাজনৈতিক স্বচ্ছতার এক ব্যতিক্রমী অঙ্গীকার।
বক্তব্যরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। প্রথমবার কিছুটা সুস্থ হয়ে বক্তব্য চালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে বসে বক্তব্য প্রদান করেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অনেকগুলো তুলে ধরতে পারেননি। এর মধ্যে ছিল—
ফ্যাসিবাদী শাসনের চিত্র তুলে ধরা
প্রবাসীদের সমস্যা ও ভোটাধিকার
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান
দলীয় দিকনির্দেশনা
সমাবেশে যোগ দিতে এসে খুলনা, পাবনা ও রংপুর জেলার তিন নেতার মৃত্যু হয়। আমির জামায়াত তাদের জন্য দোয়া ও শোক প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ ইউনুস আহমাদ বলেন:
“জামায়াতের ৭ দফা দেশের জন্য কল্যাণকর। আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।”
গণ-অধিকার পরিষদের নূরুল হক নূর, খেলাফত আন্দোলনের আবু জাফর কাসেমী, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আখতার হোসেন সহ অনেকেই বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে বলেন—মূল সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন, বলেন:
“আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি নতুনভাবে মুক্ত হয়েছি। যারা আমাদের নেতাদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার হতে হবে।”
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন,
“ইসলামী শাসন ছাড়া সমাজে শান্তি সম্ভব নয়।”
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন,
“জামায়াত সব মানুষের দল—ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।”
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা
প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার চালু করা
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা
শহীদ ও আহতদের পরিবার পুনর্বাসন করা
পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা
বক্তৃতায় অংশ নেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাবেক এমপি, ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই যোদ্ধারা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার, ড. হামিদুর রহমান, নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিন সহ অনেকে সংখ্যালঘু অধিকার, শহীদ পরিবারের পাশে থাকা, এবং কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।
জামায়াতে ইসলামীর এই জাতীয় সমাবেশ ছিল দলের পুনর্জাগরণ ও অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী বার্তা।
৭ দফা দাবির মধ্যে জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সহাবস্থান, মৌলিক সংস্কার, এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেশের মানুষকে একটি বিকল্প নেতৃত্বের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার মূল ভিত্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |