| বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে প্রাণ দিলেন তারেক রহমানের বোন মাহরিন চৌধুরী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-07-2025 ইং
  • 3545391 বার পঠিত
শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে প্রাণ দিলেন তারেক রহমানের বোন মাহরিন চৌধুরী
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানের বোন মাহরিন চৌধুরী

বীর শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরীর আত্মত্যাগ: পরিচয়ের চাইতেও বড় তাঁর মানুষত্ব

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

উত্তরা, ঢাকা | ২৩ জুলাই ২০২৫

“আমার ছাত্রছাত্রীরা আগে”—এই একটিমাত্র বিশ্বাসেই নিজের প্রাণ উৎসর্গ করলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কো-অর্ডিনেটর মাহরিন চৌধুরী
গতকাল সোমবার দুপুরে দিয়াবাড়িতে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে হায়দার আলী ভবনের শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে নিজেকে আগুনে সমর্পণ করেন এই শিক্ষিকা।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিজ হাতে বের করে দেন, যার অনেকেই বলেছে—

"ম্যাডাম যদি না থাকতেন, আমরা বাঁচতাম না।"


একজন শিক্ষিকার আত্মত্যাগের গল্প

মাহরিন ছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা ভার্সনের ইংরেজি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তিনি নিচতলার একটি শ্রেণিকক্ষে ছিলেন। অগ্নিদগ্ধ শরীর ও পুড়ে যাওয়া শ্বাসনালিসহ শতভাগ দগ্ধ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন, এবং সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেওয়া

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলছেন—অগ্নিকাণ্ডের সময় সবাই ছুটে পালাতে ব্যস্ত থাকলেও মাহরিন একাই শিশুশিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনতে থাকেন।
এই সময় তিনি নিজের দগ্ধ শরীর ও যন্ত্রণার তোয়াক্কা করেননি।


ভাইরাল হওয়া পরিচয়: ‘আমি তারেক রহমানের বোন’

ঘটনার পর মাহরিনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি বলছেন—

“আমি মাহরিন চৌধুরী, আমার বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী… আমার আরেকটা পরিচয় হলো—আমি তারেক রহমানের বোন, আমার চাচা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।”

এ পরিচয়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মহল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যা বলছেন সহপাঠীরা

মাহরিনের মানারাত ইউনিভার্সিটির সহপাঠী আলী আহমাদ মাবরুর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন—

“মাহরিন আপা আমার সিনিয়র ছিলেন। অনেক সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তার বাবা শহীদ জিয়াউর রহমানের আপন চাচাতো ভাই এমআর চৌধুরী। তিনি কখনো রাজনীতি করে সুবিধা নেননি।”

তিনি আরও জানান, “যখন বিএনপির দুঃসময় চলছিল, তখন গোপনে তারেক রহমানের বাসায় খাবার পৌঁছে দিতেন মাহরিন।”


একজন শিক্ষক, একজন শহীদার, একজন আদর্শ বোন

মাহরিনের মৃত্যুতে শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, সারা দেশের মানুষ শোকাহত।
মাহরিন চৌধুরী হয়ে উঠেছেন এক যুগের নায়িকা—যিনি জাতিকে মনে করিয়ে দিলেন, শিক্ষকতা শুধুই পেশা নয়, এক মহান ব্রত।

তার সম্পর্কে শিক্ষার্থী রাফিন বলেন—

“ম্যাডাম ছিলেন আমাদের মা। তিনি পুড়ে মরেও আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন।”


রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

  • বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন—“মাহরিন চৌধুরীর আত্মত্যাগ জাতিকে নাড়া দিয়েছে। তিনি শুধু বিএনপির আপনজন নন, তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন হয়ে থাকবেন।”

  • জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার জানাজায় বলেন—“তিনি ছিলেন একজন বীর মুসলিম নারী। ইসলামের শিক্ষাই তাকে ছাত্রদের প্রাণ বাঁচাতে অনুপ্রাণিত করেছে।”

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency