| বঙ্গাব্দ

হরেন্দ্রনাথ চন্দ্রের জয়, সোনালী ব্যাংককে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-07-2025 ইং
  • 4471866 বার পঠিত
হরেন্দ্রনাথ চন্দ্রের জয়, সোনালী ব্যাংককে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে
ছবির ক্যাপশন: হরেন্দ্রনাথ চন্দ্রের জয়,

চার দশকের আইনি লড়াই শেষে হরেন্দ্রনাথ চন্দ্রের জয়, ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সোনালী ব্যাংককে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার


ঢাকা:
প্রায় ৪০ বছর ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে কুষ্টিয়ার খোকসার ৭৮ বছর বয়সী হরেন্দ্রনাথ চন্দ্র অবশেষে পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন এবং ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের করা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত হরেন্দ্রনাথের পক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সোনালী ব্যাংকের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়

  • হরেন্দ্রনাথকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে, আগের রায়ই বহাল থাকল

  • ব্যাংকের রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ায় আর কোনো আপিলের সুযোগ নেই

  • আদালতে হরেন্দ্রনাথের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক, যিনি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড থেকে বিনা পারিশ্রমিকে তাকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন

  • সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন শামীম খালেদ

মামলার পটভূমি: দীর্ঘ এক আইনি যাত্রা

সালঘটনা
১৯৭৯সোনালী ব্যাংকে ক্যাশিয়ার কাম ক্লার্ক হিসেবে যোগ দেন হরেন্দ্রনাথ
১৯৮2–85ব্যাংকের ভেতরে টাকা স্থানান্তরের পর 'অর্থ গায়েব' হওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত
১৯৮৫বিভাগীয় মামলা হয় হরেন্দ্রনাথসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে; ১৯৮৬ সালে সাময়িক বরখাস্ত
১৯৮৬ (ফেব্রুয়ারি)সামরিক আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়
১৯৮৬ (নভেম্বর)দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে বেকসুর খালাস পান হরেন্দ্রনাথ
১৯৮৮গোপনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থঋণ আদালতে মামলা করে
১৯৯২ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত একতরফা রায় বাতিল করে হরেন্দ্রনাথের পক্ষে রায় দেয়
২০১৯ব্যাংক হাইকোর্টে আপিল করে
২০২২ (২৯ আগস্ট)হাইকোর্ট ব্যাংকের আপিল খারিজ করে
২০২৩ (৫ ফেব্রুয়ারি)ব্যাংক লিভ টু আপিল করে, যা ৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ খারিজ করে
২০২৫ (২৪ জুলাই)রিভিউ আবেদনও খারিজ—শেষ পর্বে হরেন্দ্রনাথের পূর্ণ মুক্তি নিশ্চিত
কী বলছেন আইনজীবী?

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন—

“এই রায়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলেও তা বিলুপ্ত হয় না। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে হরেন্দ্রনাথকে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই রায় শুধু হরেন্দ্রনাথের নয়, দেশের সেই সব সাধারণ মানুষের জয়, যারা রাষ্ট্রীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ন্যায়ের জন্য লড়েন।”

বিচার বিশ্লেষণ:

এই মামলা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৮৬ সালে কারাদণ্ড, এরপর খালাস, এবং তিন যুগ পরে ক্ষতিপূরণের রায়—এত দীর্ঘমেয়াদি আইন লড়াইয়ের পর এমন একটি রায় বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও মানবিক দিকটিকে স্পষ্ট করে।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, “এটি কেবল একটি মামলা নয়, এটি ন্যায়বিচারের ধৈর্য ও আইনি সহায়তার সক্ষমতার প্রতিচ্ছবি।”

সারাংশ:

বিষয়তথ্য
মামলার বয়সপ্রায় ৪০ বছর
আসামিহরেন্দ্রনাথ চন্দ্র (সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা)
অভিযোগঅর্থ আত্মসাত (যাত্রাবাড়ী শাখা থেকে ১৬ লাখ টাকা)
আদালতের রায়খালাস ও ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
সর্বশেষ সিদ্ধান্তব্যাংকের রিভিউ আবেদন খারিজ
আইনি সহায়তাসুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড থেকে
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সূত্র: সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টের রায়, কালের কণ্ঠ, আইনজীবীদের বক্তব্য

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency