প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন, অধ্যাপক আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়।
এই আচরণবিধিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, সহিংসতা ও ডিজিটাল অপব্যবহার প্রতিরোধে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট হবে
প্রার্থী বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে
দাখিলের সময় পাঁচজনের বেশি সমর্থক থাকতে পারবেন না
মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হলে প্রার্থীকে সশরীরে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যেতে হবে
সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে
শিক্ষাকার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা যাবে না
প্রচারণায় শুধুমাত্র সাদা-কালো পোস্টার, সর্বোচ্চ আকার: ৬০×৪৫ সেমি
দেয়ালে লেখা বা পোস্টার লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
অ্যাকাডেমিক ভবন, শ্রেণিকক্ষে এবং আবাসিক হলের ভিতরে মিছিল নিষিদ্ধ
সভা করতে হলে প্রক্টরের অনুমতি নিতে হবে
পরিচিতি সভা ব্যতীত মাইক ব্যবহার করা যাবে না
ফেসবুক, এক্স, টিকটক বা ইউটিউবে অশালীন/উসকানিমূলক ভাষা ও মানহানিকর বক্তব্য নিষিদ্ধ
প্রার্থী পরিচিতি সভায় বিপরীত লিঙ্গের শিক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবে
তবে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি বাধ্যতামূলক
আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল
১০ হাজার টাকা জরিমানা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি বরাবরই উত্তপ্ত।
বিশেষত ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৮ সালে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে সহিংসতা ও অস্ত্রধারী ছাত্রনেতাদের কর্মকাণ্ড প্রশাসনকে বিব্রত করেছে। ফলে এবার রাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন আগেভাগেই কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন—
“এই আচরণবিধি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তবে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে ছাত্রদের অভিব্যক্তির স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। এরপর দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন বন্ধ ছিল।
বর্তমান শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাকসু নির্বাচন হল—
ছাত্র-ছাত্রীদের মত প্রকাশের সুযোগ
প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের একটি মাধ্যম
নেতৃত্ব সৃষ্টির ক্ষেত্র
তবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার নির্বাচন শৃঙ্খলাপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল না হলে ভবিষ্যতে আবারও দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন আগেই একাধিকবার মানববন্ধন করেছে।
তাদের দাবি—
সকল ছাত্রসংগঠনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে
স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে
নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট (রাকসু আচরণবিধি – প্রকাশিত ৩১ জুলাই ২০২৫)
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার
রাকসু আন্দোলনের ইতিহাস: “ছাত্ররাজনীতি ও রাবির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট”, গবেষণা রিপোর্ট (২০২০)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |