| বঙ্গাব্দ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ ধসে ১১ শ্রমিক আহত, নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 5921563 বার পঠিত
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ ধসে ১১ শ্রমিক আহত, নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ ধসে ১১ শ্রমিক আহত, নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মীয়মাণ ছাদ ধসে আহত ১১ শ্রমিক, নির্মাণে ছিল বাঁশ আর দড়ির খুঁটি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ

৭০ কোটি টাকার ভবন, তবু সেফটি গিয়ার নেই!

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ছাত্র হলের নির্মাণাধীন ছাদের একাংশ ধসে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন শ্রমিক
৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্মাণাধীন দশতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ব্যালকনির ছাদ ঢালাই চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন—

“ভবনের এই অংশে ঢালাইয়ের সময় ব্যবহার করা হয়েছে চিকন রড, দুর্বল খুঁটি, এবং বেশ কিছু জায়গায় বাঁশ ও পাটের দড়ি।”

আরো ভয়াবহ ব্যাপার হলো—কোনো শ্রমিকের গায়ে ছিল না হেলমেট, বেল্ট বা সেফটি গিয়ার।

আহতদের মধ্যে দুজন আশঙ্কাজনক

আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
রব্বানী (৩০), বাদশা (৩০), শাহীন (২১), ফাহিম (১৭), রাকিব (২৫), মারুফ (২০), হয়রত (৩৫), মুকুল (২৩), লাদেন (২০), নুর মোহাম্মদ (৩৮) ও মুঞ্জুরুল (২৮)।
তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অপরদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন—

“তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একজন শ্রমিক কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: দুর্বল খুঁটি, স্যাঁতসেঁতে কাঠামো

ভবনটি নির্মাণ করছে সিএসআই কনস্ট্রাকশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা
শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী—

  • রডগুলো চিকন এবং জোড়াতালি দেওয়া

  • খুঁটিতে লোহার পাইপের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ ও পাটের দড়ি

  • বৃষ্টির কারণে স্যাঁতসেঁতে কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়

  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম বলেন—

“যেখানে ভবনের ছাদে দুর্বল রড আর বাঁশ দিয়ে কাজ হয়, সেখানে আমাদের জীবন কতটা নিরাপদ থাকবে? এই ভবনে যদি আমি থাকি, ভয়েই তো কাটবে দিন।”

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য: গাফিলতি মানতে নারাজ

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাহাত হোসেন দিদার দাবি করেছেন—

“আমরা সবকিছু যাচাই করেই ঢালাই শুরু করেছি। তবে মাঝখানে বৃষ্টি হওয়ায় খুঁটি দুর্বল হয়ে গেছে। আমাদের গাফিলতি নেই।”

তবে শ্রমিকদের সুরক্ষা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন—

“ঠিকাদারকে আমরা সেফটি মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে থাকি।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য প্রকৌশল বিভাগের দায় এড়ানোর প্রয়াস মাত্র।

প্রশাসনিক দায়: কী বলছে ইতিহাস?

বাংলাদেশে এর আগেও সরকারি প্রকল্পে এমন দুর্ঘটনার নজির রয়েছে:

সালদুর্ঘটনাদায়ী বিভাগ
২০১৮চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবনের পলেস্তারা ধসে ৫ জন আহতগণপূর্ত বিভাগ
২০২১ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাসে সিঁড়ি ভেঙে পড়ে ১ নিহতঠিকাদারি অব্যবস্থাপনা
২০২4বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ ধসনির্মাণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি
প্রতিবারই প্রশাসনের একটাই ভাষ্য—“তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।” কিন্তু প্রকৃত শাস্তি খুব কম ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়েছে।

শ্রমিক নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় নীরবতা

বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব পুরোনো বিষয়।
একাধিক আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন দুর্বল। ২০১৩ সালের একটি সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়, দেশে ৬৭% নির্মাণ শ্রমিক নিয়মিত সেফটি গিয়ার ছাড়াই কাজ করেন

এ ঘটনায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করবে কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি চাইতো, তারা সিডিউল অনুযায়ী কাজ বন্ধ রেখে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করাতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—ঠিকাদার আর প্রকৌশলীদের ছত্রচ্ছায়ায় তাড়াহুড়োতেই ঘটে এই ধরনের দুর্ঘটনা।

সূত্র

  1. প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার

  2. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য

  3. শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিবেদন (২০২২)

  4. গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প নীতিমালা পর্যালোচনা রিপোর্ট

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency