প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ সাবেক মন্ত্রী এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালত নির্দেশ দেন, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ইনুকে প্রডাকশন ওয়ারেন্টে হাজির করা হবে।
অভিযোগ: গত জুলাই–আগস্টে অনুষ্ঠিত ছাত্র–জনতার গণআন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যা এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে।
প্রসিকিউশনের অবস্থান: বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম উপস্থিত থেকে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন।
একই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ প্রসিকিউশন পক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনের দুটি রেকর্ড উপস্থাপন করে।
রেকর্ডে শোনা যায়—
তারা আন্দোলন মোকাবিলায় কারফিউ, সেনা মোতায়েন, সাউন্ড বোম্বিং, র্যাবের হেলিকপ্টার ব্যবহার, এবং ছাত্রনেতাদের গ্রেপ্তারের মতো কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “ক্যাজুয়াল্টির দরকার নাই, আকাশ থেকে নামবে… মেসেজটা দিতে পারেন সেনা আসছে, র্যাবের হেলিকপ্টার দিয়ে সাউন্ড বোম্বিং করা হবে।”
ইনু পরামর্শ দেন, “ঢাকা ও কুষ্টিয়ার ছাত্রনেতাদের তালিকা তৈরি করে আজ রাতেই গ্রেপ্তার করা উচিত যাতে আর মিছিল নামতে না পারে।”
আলোচনায় আরও উঠে আসে, মোহাম্মদপুর থেকে গণভবন ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি এবং তা দমন করার জন্য রাতের বেলা প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা।
এই কল রেকর্ডকে প্রসিকিউশন “অভিযোগের শক্ত প্রমাণ” হিসেবে উপস্থাপন করে।
এই মামলা এবং কল রেকর্ড প্রকাশ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সমর্থক মহল বলছে, এটি অতীতের দায়বদ্ধতার প্রশ্নে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
বিরোধী মহল দাবি করছে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটি কৌশল।
আইনি দৃষ্টিকোণ: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একজন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি বড় পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক প্রভাব: কল রেকর্ডে শেখ হাসিনার কণ্ঠ উপস্থাপন রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করবে—বিশেষত অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা ও রাজনৈতিক দায় নিয়ে।
গণআন্দোলনের তাৎপর্য: জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার আন্দোলন যে কেবল একটি রাজনৈতিক মোড় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও বিচারব্যবস্থার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে—এই মামলার অগ্রগতিই তার প্রমাণ।
যুগান্তর: “মানবতাবিরোধী মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল” (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
ইত্তেফাক: “ছাত্র–জনতার আন্দোলনে হত্যার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া” (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
প্রথম আলো: “শেখ হাসিনা–ইনুর কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন” (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |