| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে ২০% শুল্ক: বড় কূটনৈতিক জয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 5919917 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে ২০% শুল্ক: বড় কূটনৈতিক জয়
ছবির ক্যাপশন: বড় কূটনৈতিক জয়

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য ২০% শুল্কই চূড়ান্ত: বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল পোশাক খাত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১ আগস্ট ২০২৫
উৎস: হোয়াইট হাউস প্রেস রিলিজ, প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার বিবৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় স্বস্তি

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% পাল্টা শুল্কের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত আলোচনা শেষে সেটি ২০ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। আজ শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে এক স্টেটমেন্টে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল অর্থনৈতিক স্বস্তিই নয়, বরং একটি কৌশলগত কূটনৈতিক অর্জনও।

বাণিজ্য উপদেষ্টার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম আজ সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন,

"শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকব। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরা ২০ শতাংশের নিচে প্রত্যাশা করেছিলাম।’"

পেছনের গল্প: শুল্ক উঠানামা ও রাজনৈতিক আলোচনার চাপ

  • শুরুতে পাল্টা শুল্ক ধার্য হয় ৩৭%

  • পরে এটি কমিয়ে ৩৫% করা হয়

  • তৃতীয় দফার আলোচনার পর চূড়ান্তভাবে এটি ২০% নির্ধারিত হয়

এটি এমন সময় এলো, যখন ভারত ২৫%, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম ১৯%, শ্রীলঙ্কা ২০%, কম্বোডিয়া ১৯% শুল্কের মধ্যে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক জায়গায় আছে।

প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,

"শুল্কহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারা— যা প্রত্যাশিত হারের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কম—এটি আমাদের আলোচক দলের কৌশলগত সাফল্য এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।"

তিনি আরও বলেন, "এই সাফল্য আমাদের আন্তর্জাতিক শক্তি বৃদ্ধির স্বীকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করেছে।"

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বক্তব্য

ড. খলিলুর রহমান বলেছেন,

"আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল পোশাক খাতকে রক্ষা করা এবং মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক ভারসাম্য রক্ষা করা। এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি-নির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোকে খুশি করেছে এবং আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাও শক্তিশালী করেছে।"

তিনি আরও জানান, এই আলোচনা শুধু শুল্ক নয়—বরং আমদানি, নিরাপত্তা, ও অভ্যন্তরীণ নীতির সংস্কার বিষয়েও বিস্তৃত ছিল।

বাংলাদেশ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?

দেশশুল্কহার (২০২৫)
বাংলাদেশ২০%
ভারত২৫%
পাকিস্তান১৯%
ভিয়েতনাম২০%
শ্রীলঙ্কা২০%
কম্বোডিয়া১৯%
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের বাজারে প্রবেশে অনেকবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
২০১৩ সালের রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে যুক্তরাষ্ট্র GSP সুবিধা স্থগিত করে।
২০২৫ সালে এই ২০% শুল্কের অর্জন তাই কেবল এক দিনের জয় নয়, বরং এক দশকের কূটনৈতিক প্রস্তুতির ফল।

এখন কী করতে হবে?

  1. রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হবে

  2. GSP ও duty-free সুবিধা পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে

  3. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন (নতুন প্রশাসন এলে) মাথায় রেখে লবিং চালিয়ে যেতে হবে

  4. এলএনজি, গম, তুলা, সয়াবিনের মতো পণ্যে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করতে হবে

সূত্র:

  • হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং (৩১ জুলাই ২০২৫)

  • প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতি, শফিকুল আলমের ফেসবুক পোস্ট

  • বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের প্রতিক্রিয়া

  • বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA)

  • বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সাউথ এশিয়া ট্রেড রিপোর্ট

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency