চট্টগ্রামে নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ‘নোংরামির প্রতিবাদে’ রাজনীতি ছাড়লেন ফাতেমা খানম লিজা
প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: ফেসবুক লাইভ, ফাতেমা খানম লিজার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট
“চট্টগ্রামে মেয়েদের নিয়ে কতটা নোংরামি করা হয়, তা কাউকে বোঝাতে পারব না।”
এই আবেগঘন মন্তব্য করে চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজা শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন,
“আমার দ্বারা আর রাজনীতি করা সম্ভব নয়।”
“কে করে এসব? আমাদের নিজেদের মানুষই করে।”
লাইভে লিজা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে সংগঠনের অভ্যন্তরেই নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।
নারী নেতৃত্বকে দমন করতে “বাজে বয়ান ও চরিত্র হননের অপপ্রচার” চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়:
“শুধু আমাকে মাইনাস করার জন্যই একের পর এক বাজে বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, প্লিজ এসব বন্ধ করুন। মেয়েদের নিয়ে এই নোংরামি থামান।”
লিজা বলেন, চট্টগ্রামে একসময় অনেক নারী রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
কিন্তু আজ তারা প্রায় সবাই হারিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন:
“আমার মতো অনেকে সামনে থেকে লড়াই করেছে। কিন্তু তাদের প্রায় সবাই হারিয়ে গেছে।”
তিনি সরাসরি বলেন,
“চট্টগ্রামের কিছুসংখ্যক মানুষের স্বার্থের কাছে, তাদের চাওয়া-পাওয়ার কাছে আমাদের রাজনীতি হারিয়ে গেছে।”
ফাতেমা খানম লিজা চট্টগ্রামের কিছু ভাই-ব্রাদারকে দায়ী করেন যাঁরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নিজের সুবিধামতো কোরাম তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন:
“আপনারা কোরাম বানাতে বানাতে একসময় চট্টগ্রামের রাজনীতিকে শেষ করে দিয়েছেন।
এখন আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা কারও নামও শোনা যায় না।”
লাইভের পুরোটা জুড়েই লিজা ছিলেন:
স্পষ্টভাষী
আবেগপ্রবণ
কষ্টক্লিষ্ট
তবে সাহসী ও অকপট
তিনি বলেন:
“আমার ব্যক্তিগতভাবে আঘাত এসেছে। পরিবার, আত্মীয়দের সামনে আমাকে ছোট করা হয়েছে।
এসব দেখে আজ আমি নিজের কাছেই হেরে গেছি।”
লাইভ এবং পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
কেউ তার সাহসের প্রশংসা করেছেন
কেউ আবার রাজনীতির ময়দান থেকে পিছু হটার সমালোচনা করেছেন
অনেকে লিখেছেন:
“আপনি যা বললেন, তা বহু নারী নেত্রীর অব্যক্ত যন্ত্রণা।”
“আপনি চলে যাচ্ছেন, কিন্তু এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে কে?”
এই ঘটনা সামনে এনে ফাতেমা খানম লিজা যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু চট্টগ্রামের নয়—
সারাদেশের ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোতে নারীদের প্রতি বিদ্যমান অবমাননাকর অবস্থার প্রতিচ্ছবি।
প্রশ্ন হলো:
রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কি নারী নেতৃত্বকে ন্যায্য সম্মান দিচ্ছে?
তারা কি এই অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস ও মানসিক নিপীড়নকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না?
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |