| বঙ্গাব্দ

২০২৫: শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্বৈরাচার’? ট্রাইব্যুনালে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-08-2025 ইং
  • 3513877 বার পঠিত
২০২৫: শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্বৈরাচার’? ট্রাইব্যুনালে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবির ক্যাপশন: ট্রাইব্যুনালে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্য

শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার আখ্যা অ্যাটর্নি জেনারেলের: ২০২৫ সালে ইতিহাসের বাঁক বদলের ইঙ্গিত?

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: যুগান্তর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নথিপত্র, বিবিসি আর্কাইভ, বাংলাদেশ সরকার ও বিরোধী দলীয় বিবৃতি

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড়: অ্যাটর্নি জেনারেলের বিতর্কিত মন্তব্য

২০২৫ সালের ৩ আগস্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান"–সংক্রান্ত মামলায় একটি বিস্ফোরক বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আদালতের সূচনালগ্নেই তিনি বলেন:

"পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হয়নি। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার। যদি পৃথিবীর সব স্বৈরশাসক মিলে কোনো সমিতি গঠন করে, শেখ হাসিনা হবেন তার সভাপতি।"

এই বক্তব্য শুধু আদালতের কক্ষে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

বিচার প্রক্রিয়া: কারা আসামি, কী অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে মামলার শুনানি শুরু হয়। প্যানেলে ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক।

মামলার প্রধান তিন আসামি:

  1. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  2. সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

  3. পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

চমকপ্রদ বিষয় হলো, আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে রাজসাক্ষী হতে চাওয়ার আবেদন করেন এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুন “সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের” অঙ্গীকার করেছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: ২০২৫ সালের বাংলাদেশে আরেকটি '৯০' এর পুনরাবৃত্তি?

২০২৫ সালের জুলাই মাসে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে সরকারবিরোধী গণআন্দোলন। শ্রমজীবী মানুষ, তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে এই অভ্যুত্থান।

এই আন্দোলনের পটভূমিতে ছিল:

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা

  • ইভিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলন

  • ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও সরকারি নিপীড়নের অভিযোগ

  • আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ

১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে এর তুলনা চলে আসায় অনেকেই বলেন, এটি নতুন প্রজন্মের ‘৯০’র গণঅভ্যুত্থান

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

এই প্রসঙ্গে আমরা ফিরে যেতে পারি ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের দিকে, ১৯৭৫ সালের বাকশাল প্রতিষ্ঠা, ১৯৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং ২০০৭ সালের সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধ্যায়ের দিকে।

২০০৭ সালেও দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানের নামে দুই নেত্রী — শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছিল।

তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল বলেছিল:

“আইনের চোখে সবই সমান। ক্ষমতায় থাকা মানেই দায়মুক্তি নয়।”

২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে বাস্তব হয়ে উঠেছে।

বক্তব্য বিশ্লেষণ: মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার ও রাজনৈতিক রূপকথা

অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্যে বলেন:

“যদি স্বৈরাচারকে মিথ্যার উপর পিএইচডি করতে হয়, শেখ হাসিনার কাছেই তা শিখতে হবে।”

এই বক্তব্য একদিকে যেমন সরকারবিরোধী শিবিরে উদ্দীপনা জুগিয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে সৃষ্টি করেছে বিভাজন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আদালতের সম্প্রচার: সরাসরি জনতার দরবারে

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই বিচার বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হয়। আদালতের ফেসবুক পেজেও চলমান লাইভে লক্ষাধিক মানুষ যুক্ত থাকেন।

আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই বিচার শুধু একটি মামলার নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ধারার একটি মোড় ঘোরানোর সূচক।”

২০২৫ সালের প্রশ্ন: শেখ হাসিনা কি ইতিহাসের আসামি নাকি রাজনীতির কারাবন্দি?

বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে "বাকশাল" কায়েম করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা তাকে সরাসরি সেনা অভ্যুত্থানের মুখে ফেলেছিল।

শেখ হাসিনাও ২০০৯ থেকে ২০২5 পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনে একই অভিযোগের মুখে।

  • গণতন্ত্র হরণ

  • বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিককরণ

  • বিরোধীদল দমন

  • সাংবাদিকদের নিপীড়ন

  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার

এই ধারাবাহিকতা কি তাকে ইতিহাসের 'স্বৈরাচার' বলার জায়গা দেয়? নাকি এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ?

বিশ্লেষণ: বিচার না রাজনীতি?

বিষয়সমর্থকদের দৃষ্টিভঙ্গিবিরোধীদের অভিযোগ
মামলার উদ্দেশ্যন্যায়ের প্রতিষ্ঠাপ্রতিশোধমূলক রাজনীতি
ট্রাইব্যুনালস্বচ্ছ ও স্বাধীনসরকারের হাতিয়ার
মামুনের রাজসাক্ষ্যসাহসী পদক্ষেপসাজানো নাটক
উপসংহারহীন ভবিষ্যৎ: ইতিহাস কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?

আদালত কী রায় দেবে তা সময় বলবে, কিন্তু জাতি এক অস্থির সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বিচার, গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস — এই ত্রিমাত্রিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে গভীর এক উত্তরণ বা উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে।

সূত্র:

  • আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুনানি নথি, ২০২৫

  • Jugantor.com রিপোর্ট (৩ আগস্ট ২০২৫)

  • BBC Political Archive on Bangladesh (2007–2023)

  • The Daily Star Editorial, July Uprising Series

  • U.N. Human Rights Report on South Asia (2024)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency