| বঙ্গাব্দ

স্বৈরতন্ত্রের পতন হলেও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ হয়নি: টিআইবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-08-2025 ইং
  • 5971077 বার পঠিত
স্বৈরতন্ত্রের পতন হলেও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ হয়নি: টিআইবি
ছবির ক্যাপশন: টিআইবি

স্বৈরাচার পতনের এক বছরেও রাজনীতি দুর্বৃত্তায়নের বেড়াজালে: টিআইবি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
📅 তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫
📰 বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদন

স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরেও রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখল ও দুর্নীতির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে—এমন চিত্র উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে।

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির নিজস্ব মিলনায়তনে ‘স্বৈরাচারী সরকারের পতনের এক বছর: প্রত্যাশা ও অর্জন’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষক শাহজাদা আকরাম ও জুলকারনাইন।

রাজনৈতিক সহিংসতায় ১১ মাসে নিহত ১২১, আহত ৫১৮৯ জন

গবেষণায় বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে ১২১ জন নিহত এবং ৫১৮৯ জন আহত হন।

এই সহিংসতাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় দখলবাজি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষাই মূল চালিকা শক্তি ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ট্রান্সপোর্ট, টার্মিনাল, ব্যবসা—সবকিছুতেই দখল আর চাঁদাবাজি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা

  • পরিবহন টার্মিনাল দখল,

  • চাঁদাবাজি, এবং

  • বিভিন্ন ব্যবসায় জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন।

গবেষক জুলকারনাইন বলেন,
“আমরা অনেক রাজনৈতিক দলের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব লক্ষ্য করেছি। দলগুলোর ভেতরে শৃঙ্খলা নেই বলেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।”

সরকারও দায় এড়াতে পারে না: টিআইবি

জুলকারনাইন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারও অনেকক্ষেত্রে এই অপরাধ প্রবণতাকে আশ্রয় দিয়েছে।

“আমরা দলীয় লোকদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা দেখেছি,”—বলেই তিনি ইঙ্গিত করেন, সরকার একটি পক্ষের চাপে অনেক সিদ্ধান্ত থেকেও পিছিয়ে এসেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান: স্বৈরতন্ত্র গেছে, কিন্তু কাঠামো থেকে যায়নি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
“অন্তর্বর্তী সরকার অনেক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু সেগুলো ছিল অনেকটাই সাময়িক এবং অ্যাডহক ভিত্তিক। বাস্তবায়নের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই।”

তিনি আরও বলেন,
“আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছি বটে, কিন্তু স্বৈরাচারী ব্যবস্থাটির মূলোৎপাটনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা যথেষ্ট করছি না।”

১৯৫০–২০২৫: দুর্বল গণতন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে নতুন সংযোজন

এই গবেষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়—

  • ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন,

  • ১৯৭৫ সালে বাকশাল ও একদলীয় শাসন,

  • ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থান,

  • এবং ২০০৭ সালের এক-এগারো সরকারের আমল—সবসময়ই গণতন্ত্রের কাঠামোকে ভেঙে দিয়ে 'নতুন সূচনা'র কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু প্রতিবারই দেখা গেছে, ক্ষমতার রূপ বদলালেও স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে গেছে একই দুর্বৃত্তায়ন।

টিআইবির বার্তা: শুধু পতন নয়, কাঠামো বদল প্রয়োজন

গবেষণা প্রতিবেদনের সারমর্ম—
স্বৈরতন্ত্রের পতন মানেই গণতন্ত্র নয়।
দলীয় আনুগত্যে গড়া প্রশাসন, বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক চাপ,
এবং সংগঠনের ভেতরে দুর্নীতিকে সহ্য করার সংস্কৃতি—সবই গণতান্ত্রিক অগ্রগতির অন্তরায়।

সুত্র:

  • ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB), গবেষণা প্রতিবেদন, ৪ আগস্ট ২০২৫

  • শাহজাদা আকরাম ও জুলকারনাইন, গবেষক

  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান (২০২৪–২০২৫), TIB Archive

  • যুগান্তর, ৪ আগস্ট ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency