প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনা বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পতাকাবাহী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান দেশবাসীকে শোকাতুর করে তুলেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপি যৌথভাবে দেশনেত্রীর শেষ বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে তাঁকে শেরে বাংলা নগরে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
১৯৫০ সালে যখন বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত এসেছিল, তখন থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে যে আপসহীন মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে তার প্রতিফলন দেখা যায়। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—বাংলাদেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ছিল প্রাসঙ্গিক। ২০২৫ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁর প্রয়াণ যেন ১৯৫০-এর সেই সংগ্রামের এক যুগের অবসান।
খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জানাজায় আগত মানুষের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে থাকবে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য। বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকাতুর হৃদয়ে বলেন, "গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বেগম জিয়া সারা জীবন কাজ করেছেন। এই শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তর করতে চাই।"
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রদূত এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করেছেন, যা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বেগম জিয়ার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী ছিল। হিলারি ক্লিনটন থেকে শুরু করে শি জিনপিংয়ের মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, আজ তাঁর বিদায়ে সেই বিশ্বনেতারাও শোকস্তব্ধ।
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এর সাথে সংহতি জানিয়ে বিজিএমইএ বুধবার দেশের সকল পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের মুক্তবাজার অর্থনীতির যে ভিত তিনি নব্বইয়ের দশকে গড়েছিলেন, আজ তাঁর বিদায়ে সেই শিল্প পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত।
১৯৫০-এর সেই সংগ্রামী চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৫-এর এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় যুগের।
তথ্যসূত্র: ১. বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় (গুলশান) ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্রিফিং। ২. গুগল নিউজ এনালাইসিস ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তর ও বিজিএমইএ-র প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |