জাপার একাংশের দশম কাউন্সিল: নেতৃত্বে মুজিবুল হক চুন্নু, ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের দশম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর ইমানুয়েল পার্টি সেন্টারে। এতে মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাচিত হয়েছেন দলটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে। একই কাউন্সিলে আরও তিন শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন—আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান পদে, এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার মহাসচিব পদে এবং কাজী ফিরোজ রশীদ সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান পদে।
নির্বাচিত নেতৃত্ব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
জাতীয় পার্টি ১৯৮৬ সালে সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর দলটি বিভক্তি, পুনর্মিলন ও একাধিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
১৯৯০–২০২৫ পর্যন্ত জাপা বাংলাদেশের রাজনীতিতে “কিংমেকার” ভূমিকা পালন করেছে—কখনও ক্ষমতার অংশীদার, কখনও বিরোধী দল হিসেবে।
দলটির ভেতরে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালের পর থেকে বিভিন্ন নেতৃত্বকেন্দ্রিক মতপার্থক্য একাধিক ভাগ তৈরি করে। এ কাউন্সিল মূলত সেই বিভক্তি থাকা অবস্থাতেই অনুষ্ঠিত হলো।
সদ্য বিদায়ী মহাসচিব চুন্নু কাউন্সিল শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,
“দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি নৈতিকভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকে, কোনো ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।”
এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বিরোধী দলগুলোর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের প্রশ্নে জাপার অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। চুন্নুর ক্ষমাপ্রার্থনা একদিকে জনআস্থা ফেরানোর চেষ্টা, অন্যদিকে আগামীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত।
১৯৫০–১৯৭১: পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ এবং ন্যাপের মতো দলগুলো প্রভাব বিস্তার করে। এই সময় জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব ছিল না।
১৯৮২–১৯৯০: এরশাদের সামরিক শাসন এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা।
১৯৯১–২০০৮: গণতান্ত্রিক ধারায় জাপার ওঠানামা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে জোট রাজনীতি।
২০১4–2018: জাতীয় পার্টির দ্বৈত ভূমিকা—একদিকে ক্ষমতার অংশ, অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল।
২০২4–2025: জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠন পর্বে জাপার ভেতর নেতৃত্ব দ্বন্দ্ব তীব্র হয়, যা এই দশম কাউন্সিলের দিকে নিয়ে আসে।
দল পুনর্গঠন: পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাপার একাংশ তাদের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করতে চায়।
ক্ষমাপ্রার্থনার তাৎপর্য: রাজনৈতিক নৈতিকতা প্রদর্শনের মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন একটি সচেতন কৌশল।
২০২৬ নির্বাচনের প্রস্তুতি: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নেতৃত্ব প্রার্থী বাছাই, জোট আলোচনায় সক্রিয় হবে।
রাজনৈতিক ভারসাম্য: জাপা ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতার পালাবদলে প্রভাব বিস্তার করেছে, ফলে নতুন নেতৃত্বে তাদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
যুগান্তর – জাতীয় পার্টির একাংশের দশম কাউন্সিল ও নেতৃত্ব ঘোষণা
গুগল নিউজ আর্কাইভ – জাতীয় পার্টির ইতিহাস (১৯৮৬–২০২৫)
বিকল্পধারা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ – ২০২৪–২০২৫ পর্বের দলীয় বিভক্তি ও পুনর্গঠন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |