বিশেষ প্রতিবেদক: BDS Bulbul
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাণিজ্যনীতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি ভারত ও চীনের মধ্যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছে, যদিও দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সীমান্ত বিরোধ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় তিক্ত।
ট্রাম্প সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যে প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং পরে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর ফলে ভারত-চীনের মধ্যে এক ধরনের অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ গড়ে উঠছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফারওয়া আমের সিএনএনকে বলেন—
“যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতির মুখে আমরা ভারত-চীন সম্পর্কের আরও ঘনিষ্ঠতা দেখতে পাব।”
ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লাদাখ সীমান্ত বিরোধ, ডোকলাম ইস্যু এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্ককে তিক্ত রেখেছে। ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ—দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস সংঘাত ও অবিশ্বাসে ভরা।
তবুও বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন নীতির প্রভাব মাঝে মাঝে দুই দেশকে একই অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়েছে—যেমন ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) চীনের প্রবেশের পর এবং ২০০৯ সালে ব্রিকস (BRICS) ফোরামে অর্থনৈতিক সমন্বয়ের প্রচেষ্টা।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন চীন সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বেইজিং যাচ্ছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে—
“আমরা আশা করছি সম্মেলন হবে ফলপ্রসূ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করবে।”
যদিও দুই দেশের মধ্যে সাময়িক অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি পারস্পরিক বিশ্বাস বা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের ফল নয়। বরং হোয়াইট হাউসের নীতিগত চাপই এ পরিস্থিতির কারণ।
ফারওয়া আমের সতর্ক করে বলেন—
“ভারতের উচিত নয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক উপেক্ষা করে কোনো ঝুঁকি নেওয়া।”
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একদিকে ভারত-চীনের সীমান্ত ইস্যু ও রাজনৈতিক অবিশ্বাস বহাল, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্বার্থের মিল তাদের সাময়িকভাবে একই প্ল্যাটফর্মে এনেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত কৌশলগত প্রয়োজনে জন্ম নেওয়া ঘনিষ্ঠতা, যা যেকোনো সময় পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে ভেঙে যেতে পারে।
সূত্র:
সিএনএন রিপোর্ট
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট
ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক তথ্য (১৯৬২, ২০২০)
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) অফিসিয়াল বিবৃতি
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |