| বঙ্গাব্দ

ড. মখা আলমগীর ও পদ্মা ব্যাংক কেলেঙ্কারির পুরো চিত্র—দুর্নীতি, আইনি অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-08-2025 ইং
  • 4341085 বার পঠিত
ড. মখা আলমগীর ও পদ্মা ব্যাংক কেলেঙ্কারির পুরো চিত্র—দুর্নীতি, আইনি অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথ
ছবির ক্যাপশন: আলমগীর

পদ্মা ব্যাংক কেলেঙ্কারির গ্রাফে: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর—অর্থপাচার, ঋণ জালিয়াতি ও সরকারের ভূমিকা

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর (মখা আলমগীর) ওরফে মখা আলমগীরের বিরুদ্ধে পদ্মা ব্যাংক (যা পূর্বে Farmers Bank নামে পরিচিত) থেকে সংঘটিত দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) ও যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

  • ব্যাংক কেলেঙ্কারি: চেয়ারম্যান থাকাকালীন প্রায় ৩৩০০ কোটি টাকা লুট, সহযোগী বাবুল চিশতীর মাধ্যমে আরও ১৭০০ কোটি টাকা লুট হয়ে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা হাওয়া—আজও দৃশ্যমান খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৮৬%।

  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লেনদেন: মখা আলমগীর, স্ত্রী সিতারা আলমগীর, ও পরিবারের নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির নামে ৩৩টি ব্যাংক‑অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার লেনদেন, যার মধ্যে জমা ২০০ কোটি ৬৩ লাখ, উত্তোলন ১৯৭ কোটি ৮৮ লাখ এবং বর্তমান হিসাবের অবশিষ্ট মাত্র ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা—এই খাতগুলো আদালতের নির্দেশে স্থগিত।

  • অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানি‑লন্ডারিং: শুভ অটোরাইস মিল, সুলতানা ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সুলতানা অয়েল মিল, গুলবাহার হিমাগার লিমিটেড, সুলতানা ফাউন্ডেশন—এই ছদ্ম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন নিয়ে তা অন্যত্র স্থানান্তর এবং আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ।

  • আইনি ব্যবস্থা: BFIU প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—তিনি ও তার স্ত্রী “মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২”-এর ২(শ)(১৯) ধারায় অপরাধী; তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

  • ব্যাংকের ইতিহাস: ২০১৩ সালে প্রথম থার্ড‑জেন ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন প্রাপ্ত Farmers Bank, ২০১৭ সালে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে পদ্মা ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়; রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও ICB‑র মাধ্যমে ৭১৫ কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থায়নের মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা পায়।

  • সর্বশেষ আইনী ঘটনা:

    • ২৩ অক্টোবর ২০২৪: ACC ড. মখা আলমগীর ও আরও ৬ জনকে Tk‑৮.৮৬ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করে 

    • ১৭ জুলাই ২০২৫: Padma Bank‑এর সাবেক চেয়ারম্যান Chowdhury Nafeez Sarafat‑এর বিরুদ্ধে Tk‑৬৬১ মিলিয়ন (৬৬.১ কোটি) টাকা লুটপাট ও Tk‑৪ কোটি টাকা অর্থ পাচারে মামলা দায়ের করা হয় 


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

১৯৫০ থেকে ১৯৭১—বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অস্থির ছিল, ব্যাংকিং সেক্টরে স্থিতিশীলতা ছিল না। স্বাধীনতা (১৯৭১) পরপর অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করা, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা—এগুলো প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল।

১৯৯৭ সালে তিনি পরিকল্পনা, পর্যটন ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন ড. Alamgir । ২০১১ থেকে ২০১৩ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন 

এরপর, ২০১৩ সালে সম্পূর্ণ নতুন ব্যাংক হিসেবে Farmers Bank অনুমোদিত—রাজনৈতিক প্রভাব এখানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় । ২০১৭ থেকে ব্যাংক জটিলতা শুরু, ২০১৮–১৯ সালে পুনর্গঠন ও নাম পরিবর্তন ঘটে 

১৯৫০–৭১: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠার সময়।
৭১–৯০: স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের মিশন।
৯০–২০১০: গণতন্ত্র, রাজনীতিতে ওঠা-নামা।
২০১০–২০২৫: ব্যাংকিং বিতর্ক, দুর্নীতি ও পুনর্গঠন—এই কাহিনি অব্যাহত রয়েছে।


বিশ্লেষণ

  • রাজনৈতিক প্রভাব: ব্যাংকের অনুমোদন থেকে শুরু করে দুর্নীতির অভিযোগ—সবখানেই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব স্পষ্ট।

  • ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দুর্বল নিয়ন্ত্রণ: ছদ্ম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

  • আইনি প্রতিক্রিয়া ও বিচার: ACC মামলা দায়ের করলেও উচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।

  • ভবিষ্যত পরিকল্পনা: Padma Bank-এর উপরে Forensic Audit জরুরী—যাতে তার সম্পূর্ণ সংঘটন স্পষ্ট হয়, এবং গ্রাহকদের ক্ষতি পুনরুদ্ধার করা যায়।

সূত্র (References)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency