ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানা কূটনীতি, নিষেধাজ্ঞা, বৈঠক ও সতর্কবার্তা দিলেও কোনো ফল আসেনি। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইউক্রেনকেই ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আলাস্কায় শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ৩ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন—
ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্যপদের আশা ত্যাগ করতে হবে।
ক্রিমিয়া ফেরত পাওয়ার আশা ভুলতে হবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো রাশিয়ার প্রচার–তথ্যের সঙ্গে অনেকাংশে মিলে গেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ রোববার ট্রাম্প লিখেছেন:
“যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে যদি জেলেনস্কি লড়াই বন্ধ করে দেন।”
“ক্রিমিয়া আর কখনো ইউক্রেনের কাছে ফিরবে না।”
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন—
ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়তে হবে।
ন্যাটো অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন চিরতরে বাদ দিতে হবে।
কেবল এই শর্ত মানলেই যুদ্ধ থামতে পারে।
এই অবস্থানেই দৃঢ় রয়েছেন তিনি, এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পও পুতিনের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন বলে সমালোচকদের মন্তব্য।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কিয়েভের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যদি ন্যাটো প্রশ্নে পিছু হটে, তাহলে ইউরোপের নিরাপত্তা নীতি ভেঙে পড়তে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেননি, তবে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, “ন্যাটো ছাড়া ইউক্রেনের অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে রাশিয়া “একটি গুলিও ছোড়া ছাড়াই” ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।
তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে ঐতিহাসিকভাবে ভুল দাবি বলে উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ক্রিমিয়া দখলের সময় রাশিয়া ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করে এবং হাজারো ইউক্রেনীয় সেনা ও নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।
১. কূটনৈতিক চাপে পরিবর্তন: ট্রাম্প প্রথমে রাশিয়াকে ৫০-৬০ দিনের আল্টিমেটাম দিলেও এখন পুতিনের শর্তই পুনরাবৃত্তি করছেন।
২. ন্যাটো বিভাজন: মার্কিন অবস্থান বদলালে ন্যাটোর ভেতরে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ভাঙন দেখা দিতে পারে।
3. ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ: যুদ্ধবিরতি হলেও ভূখণ্ড হারানো এবং ন্যাটো স্বপ্ন ত্যাগ ইউক্রেনের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ (২০২৪–২০২৫)
ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট (১৭ আগস্ট ২০২5)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |