| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প: ইউক্রেনকে ন্যাটো আশা ত্যাগ করতে হবে, ক্রিমিয়া ফেরত আসবে না

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-08-2025 ইং
  • 4336383 বার পঠিত
ট্রাম্প: ইউক্রেনকে ন্যাটো আশা ত্যাগ করতে হবে, ক্রিমিয়া ফেরত আসবে না
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্প

ট্রাম্পের অবস্থান পাল্টে গেল: ইউক্রেনকে ন্যাটো ছাড়ার শর্তে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত

ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানা কূটনীতি, নিষেধাজ্ঞা, বৈঠক ও সতর্কবার্তা দিলেও কোনো ফল আসেনি। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইউক্রেনকেই ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন

  • আলাস্কায় শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ৩ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন—

    • ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্যপদের আশা ত্যাগ করতে হবে।

    • ক্রিমিয়া ফেরত পাওয়ার আশা ভুলতে হবে।

  • ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো রাশিয়ার প্রচার–তথ্যের সঙ্গে অনেকাংশে মিলে গেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ রোববার ট্রাম্প লিখেছেন:

    • “যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে যদি জেলেনস্কি লড়াই বন্ধ করে দেন।”

    • “ক্রিমিয়া আর কখনো ইউক্রেনের কাছে ফিরবে না।”

পুতিনের অনড় শর্ত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন—

  • ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়তে হবে।

  • ন্যাটো অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন চিরতরে বাদ দিতে হবে।

  • কেবল এই শর্ত মানলেই যুদ্ধ থামতে পারে।

এই অবস্থানেই দৃঢ় রয়েছেন তিনি, এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পও পুতিনের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন বলে সমালোচকদের মন্তব্য।

ইউক্রেন ও ইউরোপের উদ্বেগ

  • ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কিয়েভের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত

  • বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যদি ন্যাটো প্রশ্নে পিছু হটে, তাহলে ইউরোপের নিরাপত্তা নীতি ভেঙে পড়তে পারে।

  • ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেননি, তবে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, “ন্যাটো ছাড়া ইউক্রেনের অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

ক্রিমিয়া প্রসঙ্গ

  • ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে রাশিয়া “একটি গুলিও ছোড়া ছাড়াই” ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।

  • তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে ঐতিহাসিকভাবে ভুল দাবি বলে উল্লেখ করেছেন।

  • জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ক্রিমিয়া দখলের সময় রাশিয়া ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করে এবং হাজারো ইউক্রেনীয় সেনা ও নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।

বিশ্লেষণ

১. কূটনৈতিক চাপে পরিবর্তন: ট্রাম্প প্রথমে রাশিয়াকে ৫০-৬০ দিনের আল্টিমেটাম দিলেও এখন পুতিনের শর্তই পুনরাবৃত্তি করছেন।
২. ন্যাটো বিভাজন: মার্কিন অবস্থান বদলালে ন্যাটোর ভেতরে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ভাঙন দেখা দিতে পারে।
3. ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ: যুদ্ধবিরতি হলেও ভূখণ্ড হারানো এবং ন্যাটো স্বপ্ন ত্যাগ ইউক্রেনের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

সূত্র

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency