| বঙ্গাব্দ

শাহাদাত: খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভূমিকা ছাড়া দেশের ইতিহাস লেখা যাবে না

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-08-2025 ইং
  • 3375416 বার পঠিত
শাহাদাত: খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভূমিকা ছাড়া দেশের ইতিহাস লেখা যাবে না
ছবির ক্যাপশন: শাহাদাত

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না: চসিক মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভূমিকা ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। এই নেত্রীকে বাদ দিয়ে দেশের কোনো ইতিহাস রচিত হবে না।”

শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নগরীর নাসিরাবাদ কনভেনশন হলে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম শাখার পক্ষ থেকে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি

শাহাদাত হোসেন বলেন, “১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দানে খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন—বিএনপি কোনো অবস্থায় এরশাদের নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনা সেসময় একই কথা বললেও পরে ঢাকায় গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। অথচ খালেদা জিয়া আপোসহীন থেকেছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও জামায়াত ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণেই এরশাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হয়েছিল। অন্যথায় এর পতন ১৯৮৬ সালেই ঘটত।

তিনি আরও বলেন, “১৯৮৮ সালে এরশাদের আরেকটি নির্বাচনের ঘোষণা দিলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং আন্দোলন জোরদার হয়। তখন আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিই।”

ছাত্রদলের প্রভাব ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা

শাহাদাত বলেন, বুয়েট, চুয়েট, ঢাকা মেডিকেল, চট্টগ্রাম মেডিকেল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের প্রভাব বিস্তার ঘটেছিল। ডাকসু নির্বাচনে আমান-খোকনের প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।

তিনি স্মরণ করেন, “১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর নূর হোসেন, মোজাম্মেল, জিয়াদ শহীদ হন। পরে বিএমএর যুগ্ম সম্পাদক ডা. মিলন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। অথচ আওয়ামী লীগের মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন তার পাশে থেকেও অক্ষত ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন ঘটে।”

১/১১ ও পরবর্তী সময়

বিএনপির এই নেতা বলেন, “১/১১-এর সময় মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে বিদেশে পাঠানো হয়। তিনি বিদেশে চলে যান, কিন্তু খালেদা জিয়াকে বলা হলেও তিনি দেশ ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন—যদি বাঁচতে হয় এ দেশেই বাঁচব, মরতে হলে এ দেশেই মরব।”

শাহাদাতের দাবি, শেখ হাসিনা কুকর্মের বৈধতা দেওয়ার কারণে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় বসানো হয়। কিন্তু খালেদা জিয়া বৈধতা দিতে রাজি হননি বলেই গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা হত্যা, গুম, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন।

ষড়যন্ত্রমূলক মামলার অভিযোগ

তিনি বলেন, “মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, খাবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার অধিকারের কথা বলার জন্যই খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জেলে ঢোকানো হয়েছে, গৃহবন্দী রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যাকে সম্মান দিতে চান তাকেই সম্মান দেন। রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বিপরীতে খালেদা জিয়া বিদেশে গিয়েছেন রানীর মতো সম্মান নিয়ে এবং রানীর মতোই দেশে ফিরেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গ

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশনায়ক তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করি।”

বিশ্লেষণ

ডা. শাহাদাতের বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় উঠে এসেছে—
১. স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভূমিকা।
২. ১/১১ ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার অটল অবস্থান।
৩. আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।

এ বক্তব্য বিএনপির ভেতরে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে।


সূত্র

  • দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা, নাসিরাবাদ কনভেনশন হল, চট্টগ্রাম (২৩ আগস্ট ২০২৫)

  • বক্তব্য: ডা. শাহাদাত হোসেন, মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; নেতা, বিএনপি

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency