মধুপুরে বস্তায় আদা চাষে কৃষকদের স্বপ্ন—কম খরচে বেশি লাভ, নতুন সম্ভাবনার দ্বার
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ী গড়াঞ্চলে কৃষকরা নতুন এক সফলতার গল্প লিখছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৭০ হেক্টর জমিতে ও বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। কম খরচ, ঝুঁকিমুক্ত পদ্ধতি ও ভালো ফলনের কারণে এ চাষাবাদ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ফুলবাড়ি গ্রামের চাষি ফজলুল হক বলেন, “আমি চার হাজার বস্তায় আদা আবাদ করেছি। ঝড়-বৃষ্টি বা খরা—কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেই এই চাষে বড় ক্ষতি হয় না। প্রয়োজনে বস্তাগুলো সরিয়ে নেয়া যায়। পোকার আক্রমণও অনেক কম।”
ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের রেজাউল করিম জানান, “প্রথমবার বস্তায় আদা চাষ করছি। ১০ হাজার বস্তায় আবাদ করেছি। এক লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও আশা করছি পাঁচ লাখ টাকার আদা বিক্রি করতে পারবো।”
গারোবাজারের কৃষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, “বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ছয় হাজার বস্তায় আদা লাগিয়েছি। গাছগুলো সতেজ আছে, ফলনও ভালো হবে।”
ভবানটিকী গ্রামের শিমুল মণ্ডল জানান, “চৈত্র মাসে ৩০ শতাংশ জমিতে আদা লাগিয়েছি। কার্তিক মাসে উত্তোলন শুরু হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম বলেন, “গত মৌসুমে অনেক আদা পোকায় নষ্ট হয়েছিল। এবার বস্তায় উৎপাদিত আদা কিনেছি, ফলন ভালো হয়েছে।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পরামর্শে কৃষকরা গোবর, খৈল, ছাই ও সামান্য রাসায়নিক সার মিশিয়ে বস্তায় চাষ করছেন। যত্ন নিলে ভালো ফলন হয়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, “এ বছর মধুপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বস্তায় আদা চাষ হচ্ছে। খরচ কম, ফলন বেশি—এই কারণে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
মধুপুরের মাটি আনারসসহ নানা ফসলের জন্য উপযোগী। আদা এখন সেখানে আনারস ও হলুদের পাশাপাশি অর্থকরী ফসলের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। পতিত জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা যেমন বাড়তি আয় করছেন, তেমনি স্থানীয় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে মধুপুরের কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস, টাঙ্গাইল।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিমত।
মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |