বিএনপি সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর দল”—হালুয়াঘাটে এমরান সালেহ প্রিন্স
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন,
“বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর দল নয়। বিএনপি বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মাবলম্বী ও জাতিগোষ্ঠীর দল।”
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর শহরের ইমেক্স হোটেলে গারো সম্প্রদায়ের মাহারী (গোত্র) ভিত্তিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন,
বিএনপি ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী, দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে রেইনবো ন্যাশন গড়ে তুলতে চায়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি ইনক্লুসিভ ও পজিটিভ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে গারো ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে বিএনপির সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।
প্রিন্স অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন আওয়ামী সরকার শুধুমাত্র বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও অন্যান্য ভাষা-সংস্কৃতিকে অস্বীকার করেছিল।
এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সূচনা হয়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে সব ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন,
“ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে অবহেলা নয়; বরং যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন দিয়ে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে বিএনপি আগামী সরকারে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে। এটি বেগম খালেদা জিয়া তার ভিশন ২০৩০-এ উল্লেখ করেছিলেন।”
তিনি আরও জানান, হালুয়াঘাটে গারো জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে একটি পৃথক জাদুঘর বা প্রদর্শনী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সুব্রত রেমা।
বক্তব্য দেন—
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর,
বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী,
কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ,
চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান,
গারো সম্প্রদায়ের নেতারা: অপূর্ব ম্রং, শ্যামল রিছিল, আশীষ আজিম, পেরস দারিং, এমিল পথাং, রতন সাংমা, পাস্টর ফরিদ ম্রং, পাস্টর তুরিদ্র পাঠা, উত্তম রাসাং, নির্পন মালসাম, প্রনুয়েল রুরাম, ফ্রান্সিস ঘাগরা, প্রদীপ বাজি, লিরা চিরান, শ্রিয়া চিরান, প্রলয় রংদী, সাধুচরণ আজিম প্রমুখ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদের ধারা নিয়ে সবসময় বিতর্ক থেকেছে।
আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করলেও বিএনপি সব ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনি কৌশল ও রাজনৈতিক বার্তার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
১. অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা – বিএনপি নিজেকে সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর দল হিসেবে তুলে ধরছে, যা আসন্ন নির্বাচনে তাদের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টানা – প্রিন্স আওয়ামী লীগের নীতিকে একপাক্ষিক উল্লেখ করে জিয়ার সময়কার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
৩. ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন – ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক কর্তৃপক্ষ ও জাদুঘরের প্রতিশ্রুতি বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত।
৪. স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব – হালুয়াঘাটের মতো গারো অধ্যুষিত এলাকায় এ বার্তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিধ্বনি তুলতে পারে।
যুগান্তর পত্রিকা, হালুয়াঘাট মতবিনিময়সভা প্রতিবেদন (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, ভিশন ২০৩০
উইকিপিডিয়া: Ethnic minorities in Bangladesh
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |