| বঙ্গাব্দ

ধোবাউড়ায় নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত ১: এমরান সালেহ প্রিন্স ও সালমান ওমর রুবেল সমর্থকদের সংঘাত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 2548901 বার পঠিত
ধোবাউড়ায় নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত ১: এমরান সালেহ প্রিন্স ও সালমান ওমর রুবেল সমর্থকদের সংঘাত
ছবির ক্যাপশন: ধোবাউড়ায় নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত

ধোবাউড়ায় নির্বাচনি সহিংসতা: বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজতেই ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় শুরু হয়েছে রক্তাক্ত সংঘাত। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম (৪৬) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত নজরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণ ও হতাহত

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি এরশাদ বাজারে তার নতুন নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন করতে যান। উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকদের সঙ্গে রুবেলের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হন রামসিংহপুর এলাকার নজরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল এই হত্যার জন্য সরাসরি এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকদের দায়ী করে বলেন, "প্রিন্স ভাইয়ের লোকজনের অতর্কিত হামলায় আমার একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আমি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।"

অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শত্রুতা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, নিহতের সাথে তার পরিবারের কোনো সমস্যা ছিল। তবে যদি আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকে, আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেব।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

ময়মনসিংহ-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এই সীমান্ত অঞ্চলে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া অঞ্চলের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনগুলোতে এখানে আওয়ামী লীগের প্রমোদ মানকিন এবং বিএনপির এএফএম নাজমুল হুদার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর যখন দেশ একটি অবাধ নির্বাচনের অপেক্ষায়, তখন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ভোটকে সামনে রেখে এমন প্রাণহানি সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ১৯০০ সাল থেকে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে নেতৃত্বের কোন্দল ও সংঘাতের ইতিহাস থাকলেও, জুলাই বিপ্লবের চেতনার ‘নতুন বাংলাদেশে’ এমন সহিংসতা মানুষ কাম্য মনে করে না।

আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


তথ্যসূত্র: ১. ধোবাউড়া থানা ও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. ময়মনসিংহ-১ আসনের প্রার্থীদের প্রেস ব্রিফিং ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য। ৩. বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস ও জেলা গেজেটিয়ার (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency