প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এখন তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জসহ পুরো সিলেট বিভাগে বইছে উৎসবের আমেজ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে জনসভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ ঘোষণা করেছেন এক নতুন লক্ষ্য—ইসলামী মূল্যবোধকে জাগ্রত রেখে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া।
তারেক রহমানের হবিগঞ্জ সফর সফল করতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্ধারিত মাঠে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। রোববার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে জিকে গউছ বলেন, "আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে আমরা জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। গত ১৭ বছরের মামলা-হামলা মোকাবিলা করে আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে।" জনসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির নিজস্ব ফোর্স সিএসএফ (CSF) এবং বিপুল সংখ্যক দলীয় স্বেচ্ছাসেবীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জিকে গউছ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো অবশিষ্টাংশ যেন প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
হবিগঞ্জের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি সবসময়ই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
১৯০০ - ১৯৪৭ (ব্রিটিশ আমল): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে হবিগঞ্জ ছিল চা-শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। ১৯২১ সালের চা-শ্রমিকদের 'মুল্লুকে চল' আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
১৯৭১ (মহান মুক্তিযুদ্ধ): একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরের অধীনে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ও তেলিয়াপাড়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা। এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।
১৯৯০ (স্বৈরাচার পতন): ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে হবিগঞ্জের ছাত্র-জনতার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। সেই সময় থেকেই এই অঞ্চলে বিএনপির একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে ওঠে।
২০২৪ (জুলাই বিপ্লব): ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে হবিগঞ্জের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, তারই চূড়ান্ত রূপ দিতে এখন ২০২৬-এর নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দেশ।
২০২৬ (ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন): দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। তারেক রহমানের এই নির্বাচনি সফর মূলত তৃণমূলের কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং দলীয় প্রার্থীদের জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ সফর কেবল নির্বাচনি প্রচার নয়, বরং এটি তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় পরীক্ষা। জিকে গউছের বক্তব্যে যে 'ইসলামী মূল্যবোধ' ও 'সুন্দর বাংলাদেশ'-এর কথা উঠে এসেছে, তা মূলত ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে ধারণ করার একটি কৌশল। অন্যদিকে, শায়েস্তাগঞ্জের জনসভা থেকে তারেক রহমান কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ।
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন প্রতিবেদন ও ১৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের সংবাদ। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) - তারেক রহমানের সিলেট ও হবিগঞ্জ সফর বিষয়ক নিউজ। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (রাজনৈতিক ইতিহাস ও ১৯০০-২০২৬ টাইমলাইন)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |