বিএনপি প্রায় ২০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত — তৃতীয় সপ্তাহে গণসংযোগের ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া তুঙ্গে উঠেছে। দলটি প্রায় দুই শতাধিক আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ওই প্রার্থীদের গণসংযোগে নামার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিচে পাঠককে জানানো হলো এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট, প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ — বিশ্লেষণসহ:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আসনভিত্তিক বিরোধের উৎস হবে যদি একাধিক দলীয় প্রার্থী থাকে। তাই বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে সিরিজ বৈঠক, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আলোচনায় মিলিয়ে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ধানের শীষ পক্ষে না থাকলে “নেমে আসবে বহিষ্কারের খড়গ” — দল হিসেবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর মনোভাব।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, হঠাৎ প্রার্থী ঘোষণা করলে সেটা গণভিত্তিক দল হওয়া অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই, যারা বাস্তবিকভাবে গণ-সম্পৃক্ততা ও জনপ্রিয়তা রাখে, তাদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে।
সেপ্টেম্বর জুড়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
বিভিন্ন স্তরে জরিপ ও শতকরা প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে — সংবাদসূত্র মতে, প্রায় ৭০% আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
শনাক্ত প্রার্থীদের নাম এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি; তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
বিএনপি মিত্র দলগুলোর কাছ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা চেয়েছে। এখনও পর্যন্ত একাধিক রাজনৈতিক দল ও জোট সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দিয়েছে।
যদিও নীতিগতভাবে সর্বোচ্চ ৫০টি আসন মিত্রদের জন্য খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেটা এখনও চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
কিন্তু মিত্রগণ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন—কিছু এলাকায় বিএনপি নেতা ও মিত্রদের প্রচারণার দ্বন্দ্ব তৈরী হচ্ছে।
এক সময় বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এ মুহূর্তে কঠিন প্রতিপক্ষের ভূমিকা নিচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা এবং কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তবে প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন (PR) পদ্ধতির বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে।
নির্বাচন বিকল্প (PR বা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা) নির্ধারণে পারস্পরিক চাপে সম্পর্ক বিষম এক দিকেই যাচ্ছে।
আন্দোলন-মেমোরিবল শক্তি বনাম মাঠশক্তি
যতই আন্দোলন আভাস থাকুক, নির্বাচনী এলাকায় যদি প্রার্থী মাঠভিত্তিক কার্যক্রম চালাতে না পারে, জনগণের সাথে যোগাযোগ দুর্বল হবে।
মিত্রদের অসন্তোষ ও দ্বিমুখী প্রচারণা
মিত্র দলগুলোর অভিযোগ, অনেক বিএনপি নেতা তাদের আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন—যাতে বিরোধ ও দ্বিমুখ ধরা পড়েছে।
নামের তালিকায় নতুন মুখ ও পুরাতন নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
কালের কণ্ঠের এক সংবাদে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০টি আসনে প্রার্থী বদল বা নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরাতন নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং নতুন প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বিচারচিন্তা দুশ্চিন্তা বাড়াবে।
তফসিল–মনোনয়ন বোর্ড–চূড়ান্তকরণ ঝামেলা
অনেক কিছু তফসিল প্রকাশের পর চূড়ান্ত হবে—এই অবস্থায় কেউ ‘বহির্ভূত প্রভাব’ ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
PR পন্থা ও জামায়াত বিরোধ
যদি নির্বাচন PR পন্থায় যায়, বিরোধী দল ও মিত্রদের মধ্যে নতুন রূপান্তরের চাপ তৈরি হবে—এটি বিএনপির একক প্রার্থী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
বিএনপি এখন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা দলীয় ঐক্য ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। একক প্রার্থী নীতি তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে — কারণ একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট বিভাজন হয় ও প্রতিপক্ষ সুবিধা পায়।
তবে, শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয় — নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একমুখে কাজ করা, মিত্রদের সঙ্গতিপূর্ণ অংশগ্রহণ, নির্বাচন কমিশন ও তফসিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, এবং নামসূচি–চূড়ান্তকরণ ধাপ পর্যন্ত শৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা—এসবই নির্ধারণ করবে এ দেশে দলটি কতটা সফল হতে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাদের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্টের মতো—যেখানে প্রক্রিয়াগত ও রাজনৈতিক অ্যালায়েন্স সমন্বয়ের সফলতা ভোটে ভাষা পাবে।
The Business Standard: “BNP will soon give green signal to candidates in each constituency”
The Daily Star: “BNP’s seat-sharing math stirs unease among allies”
Banglanews24.com: নির্ধারিত একটি সংবাদ “নির্বাচনের জটিল সমীকরণ, কতটুকু প্রস্তুত বিএনপি?”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |