| বঙ্গাব্দ

নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা: তদন্ত কমিশন বৈঠক ও বিচার দাবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-10-2025 ইং
  • 3068194 বার পঠিত
নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা: তদন্ত কমিশন বৈঠক ও বিচার দাবি
ছবির ক্যাপশন: নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিশন-বিফলতা? — বৈঠকের পর কথা আর দাবি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


২০২৫ সালের ৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় সুপ্রিমকোর্ট ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় — বিষয় ছিল নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত কমিশন এবং দলটির প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার একটি যৌথ প্রক্রিয়া।

বৈঠকের বিবরণ ও প্রতিনিধির বক্তব্য

বৈঠকে অংশ নেন:

  • মো. রাশেদ খাঁন (গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক)

  • আবদুজ জাহের (উচ্চতর পরিষদ সদস্য)

  • নাজমুল হাসান (ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক)

  • আক্তারুজ্জামান সম্রাট (সাংগঠনিক সম্পাদক)

কমিশন তাঁর বক্তব্য আলাদাভাবে গ্রহণ করে।

বৈঠকের পর সংবাদকর্মীদের মন্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন,

“আমরা তদন্ত কমিশনকে নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বিস্তারিত জানিয়েছি এবং ন্যায্য বিচার চেয়েছি।”

তিনি আরো যুক্ত করেন, “শেখ হাসিনার আমলে আমাদের মার খেতে হয়েছে; ২০১৮-এর কোটা আন্দোলন সফল করে গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সাল পর্যন্ত লড়াই করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আজ আমরা লড়াই করছি, কিন্তু টার্গেটেড হামলা এই সরকারকেই লজ্জায় ফেলে দেবে। যদি এই ঘটনার বিচার না হয়, বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কখনো ফিরবে না।”

রাশেদ এমনকি বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকুক — উন্নত ক্ষমতা বা পদমর্যাদা যাই হোক — সবার ওপর বিচার প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াগতভাবে চলা উচিত।


ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সর্বশেষ আপডেট

হামলার ঘটনা ও পাল্টা অভিযোগ

  • ২৯ আগস্ট ২০২৫ রাতে ঢাকার কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল ও তার অভিযোগ — জাপা (জাতীয় পার্টি) কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জাপা কর্মীরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু করে। এতে নুরসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। 

  • রাশেদ দাবি করেন, আর্মি ও পুলিশ একযোগে হামলা চালিয়েছে। 

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করে, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া করার মধ্যে ছিল। 

  • জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা প্রথম ইট ছুঁড়েছিল, যার উত্তরে পাল্টা প্রতিরোধে জাপার নেতা-কর্মীরা ধাওয়া শুরু করেন। 

অবরুদ্ধ ও আগের হামলার অভিযোগ

  • পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় নুরকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী তা উদ্ধারে নামেন। 

    নুর নিজেই ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, বিএনপির এক নেতা ও তাঁর অনুসারীরা রাস্তায় গাছ, রড, রামদা দিয়ে পথরোধ ও মারধর করেছে। 

  • হামলার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ ও দ্রুত বিচার দাবি করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে। 

  • হামলার ঘটনায় জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র অবলম্বন করা হয়েছে বলে গণঅধিকার পরিষদ দাবি করেছে। 

সরকারি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

  • অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে, “যে কোনও ব্যক্তিই দোষী হোক, রেহাই পাবে না” বলে জানায়। 

  • বিএনপিজামায়াতে ইসলামী একইভাবে নুর ও রাশেদসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করেছে। 

  • মির্জা ফখরুল (বিএনপি সচিব সাধারণ) এক বিবৃতিতে হামলার “প্রচণ্ড নিন্দা ও প্রতিবাদ” জানিয়ে বলেছেন, গণক্ষমতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতি রক্ষার অধিকার সর্বপ্রকার সম্মানযোগ্য। 

  • তারেক রহমান বা BNP-র অন্য শীর্ষ নেতারা (ভারপ্রাপ্ত) এই ঘটনার মোট উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। (সংবাদ সূত্র)

নতুন তথ্য: চিকিৎসা, বিদেশ যাত্রা ও ফিরে আসা

  • হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে নুর ও রাশেদও রয়েছেন। তারা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

  • নুর সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসেন চিকিৎসা শেষে। 

মামলা ও অভিযোগ

  • বরিশালে জাপা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নুর ও অন্য ১০৫ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

  • গণঅধিকার পরিষদ অভিযোগ করেছে, এই মামলা শুধুমাত্র নুর ও রাশেদদের বিরুদ্ধে নয়, এটি “জাপার কাঁধে ভর করে পলাতক ও পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের” চক্রান্তের অংশ। 

বিশ্লেষণ: গুরুত্ব, বাধা ও পরিণতি

ন্যায্যতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা

বৈঠক ও রাজনীতিক চাপ বাড়লেও, তদন্ত কমিশন দ্বারা কতটুকু স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে—এটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যদি বিচারব্যবস্থায় প্রভাব বা উৎসাহ থাকে, আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

রাজনীতিক ব্যবহারের সম্ভাব্যতা

এই ঘটনা রাজনৈতিক আক্রমণ, সহিংসতা, “টার্গেটেড হামলা” — এসব রূপে বিকৃত হতে পারে। এটি প্রতিপক্ষকে দোষীপক্ষ বানিয়ে প্রেরণা হতে পারে।

গোষ্ঠী বিরোধ ও উত্তেজনা

জাপা, বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদের মধ্যকার বিদ্বেষ ও অভিযোগ পাল্টাপাল্টি, সংঘর্ষ দ্রুত রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।

সমর্থন ও প্রতিরোধ

সমাজ, মিডিয়া, নাগরিক আন্দোলন, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক নজর এই ঘটনার যেকোনো ডেটাকে গতি দিতে পারে।

ভবিষ্যতের পথ

  • ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচার দাবি আন্দোলনকে একটি নতুন পরিমাপ দেবে

  • হামলার ঘটনার নিবন্ধন-মাধ্যমিক প্রক্রিয়া (ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান) তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি

  • রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমে নতুন ছড়িয়ে পড়া “হামলা ও প্রতিহামলা” প্রবণতা বোধগম্য


উপসংহার

নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা একটি সংকেত দিচ্ছে — রাজনৈতিক সহিংসতার একটি নতুন মাত্রা। বৈঠক ও আলোচনা হলেও, তদন্ত কমিশনবিচারপ্রক্রিয়া যে স্বাধীন ও কার্যকর হতে পারবে কি না, সেটি আগামী দিনে পরিষ্কার হবে।
যদি এই ঘটনা সুষ্ঠুভাবে বিচারের মুখ পায়, তা হবে একটা নিরাপত্তার মাইলফলক; নাহলে, এটি উত্তেজনা ও সন্দেহের নতুন এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।


সূত্র

  1. Prothom Alo: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় নুরুল হকসহ আহতদের খবর 

  2. Dhaka Tribune: রাশেদ দাবি করেছে আর্মি ও পুলিশ যৌথভাবে হামলা করেছে 

  3. The Business Standard / TBS / New Age: গণঅধিকার পরিষদে সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency