প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ৬ অক্টোবর — বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক আজ (সোমবার) বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের দল কোনো নির্বাচনী জোটে যোগ দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সর্বপ্রথম সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গৃহীত হবে।
তিনি বলেন, “আপাতত আমরা ‘জুলাই-সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন’ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করছি। এই আন্দোলন সফল হওয়া জরুরি; এর বিকল্প নেই।”
মামুনুল হক বিস্তারিত জানান:
পার্টির যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রথমে রাজনৈতিক সেলে আলোচনা হবে।
এরপর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি তাতে সিদ্ধান্ত দেবে।
এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সভায় আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে।
প্রয়োজনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতও গ্রহণ করা হবে।
তিনি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বেশ স্পষ্টভাবে বলেছেন:
“জনগণের সঙ্গে মেশেই কাজ করুন; তাদের ভাবনা, মনোভাব বোঝার চেষ্টা করুন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত জনগণের চাওয়া–পাওয়া ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।”
মাওলানা মামুনুল হক সাম্প্রতিক কিছু ধর্মীয় ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। বলেন,
“যে জঘন্য অপরাধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
তিনি জানান, দিনে তিনি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন (যুগ্ম মহাসচিব)
মাওলানা আব্দুস সোবহান (কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য)
জাকির হোসাইন (খেলাফত যুব মজলিস সভাপতি ও পরিষদ সদস্য)
অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা
খেলাফত মজলিস একটি ধর্মনির্ভর রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়; কিন্তু নির্বাচনী জোট বিষয়ে তারা আপাতত নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো:
সাংগঠনিক স্বাধিকার ও প্রক্রিয়া
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধাপগুলো তাদের জন্য নীতিগত গুরুত্ব বহন করে — ‘রাজনৈতিক সেল’ → ‘নির্বাহী কমিটি’ → ‘মজলিসে শূরা’ — এই ধাপগুলি দলকে সুসংগঠিত রাখার ইঙ্গিত দেয়।
জুলাই-সনদ আন্দোলনে অগ্রাধিকার
দলটি মূলমন্ত্র হিসেবে বর্তমান সময়কে জুলাই-সনদ অবিলম্বন দাবি ও আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে; মানে, তারা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংস্কার ও ধর্মনির্ভর দাবি তুলছে।
জনগণের সাথে সংলাপ ও গ্রহণযোগ্যতা
মামুনুল হকের বার্তা স্পষ্ট — প্রচারণা ও কাজ যেন জনভিত্তিক হয়। শুধু দলীয় নির্দেশে না, জনগণের বাস্তব চাহিদায় কাজ করতে হবে।
সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনী জোট বিষয়ে আগ্রহী হলে মাঝে—মধ্যপন্থা নিয়ে ভাবতে হবে
ধর্মীয় ইস্যুতে সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে ভুল হলে সমালোচনা হতে পারে
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করতে হবে
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর পদক্ষেপ দেখাচ্ছে — তারা এখনো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের দাবি ও কার্যক্রম ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখে, সেটি নির্ভর করবে তাদের সংগঠিত ক্ষমতা, জনমতের সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মোকাবেলার সক্ষমতার ওপর।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |