ভারতের অর্থায়নে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ গোপন মিছিল: কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের দাবী ও প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ”
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কুমিল্লা নগরীর ইবনে তাইমিয়া স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম’ ও ‘সিরাত পাঠ’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন: আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ভারতের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকাসহ গোপনে ঝটিকা মিছিল করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে এবং প্রশাসনের একটি অংশকে তারা নিজেদের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন:
উপদ্রবমূলক জোড়া মিছিল এবং প্রশাসন–দলীয় ক্রিয়াকলাপের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ক্যাম্পাসে গোপন প্রভাব ও নিপীড়নের চিত্র সামনে এনেছে; বিশেষ করে, “ভারত আমাদের দেশে কতটা শিকড় গেঁড়েছিল, সেই সুরাহা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।”
আবরার ফাহাদের শহীদত্ব প্রজন্মকে জাগ্রত করেছে; তিনি বলেন, “অদূর ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস বা কোথাও কোনো ধরণের আধিপত্যবাদ বা নিপীড়ন বিরাজ করা সম্ভব হবে না।”
২০২৪-এর জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে প্রায় ১,৫০০ জন (শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অন্যান্য শ্রেণি) নিহত দাবি ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি।
সরকারের প্রতি অনুরোধ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ আরও তৎপর ও সচেতন রাখার নির্দেশ, যেন নতুন রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা না যায়।
“প্রয়োজনে শহীদ হবো, তবুও অন্যায়ের কাছে মাথানত করা যাবে না” — শিবির নেতা এই সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য বলেন ফেনীতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে।
শিবির সভাপতি আরও বলেন, “ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, আমরা বিজয় পেয়েছি; এখন ছাত্রশিবিরের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে; ডাকসু ও জাকসুতে জয় পেয়েছি।”
৬ অক্টোবর ২০১৯ রাতেই বুয়েট শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার রুমমেটরা গ্রুপভাবে তাকে ডেকে নিয়ে সংঘযুক্তভাবে নির্যাতন চালায়।
হত্যার পর ঢাকা, বুয়েট ও অন্যান্য ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়; পরে হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রাখে (১৬ মার্চ ২০২৫)।
আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতের সম্ভাব্য প্রভাব সংক্রান্ত মত প্রকাশ: শিবির সভাপতি ও অন্যান্য সাপেক্ষ বক্তারা দাবি করেছেন যে হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র ছাত্ররাজনীতির ঘটনা নয়, বরং বিদেশি হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক ম্যানিপুলেশনও এর পিছনে রয়েছে।
আখতার হোসেন (জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব) মন্তব্য করেছেন আবরার ফাহাদ “বাংলাদেশের পক্ষের ঐক্যের প্রতীক” হিসেবে; তার দাবি, তার হত্যা ভারতের আগ্রাসন ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
সালাহ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আবরারের আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে আজকের আন্দোলন একপ্রকার “জুলাই অভ্যুত্থানের সিঁড়ি” গড়েছে — ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যে সংগ্রাম, তার ধারাবাহিকতা এই ঘটনার মধ্যে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতীয় প্রভাব ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুরাতন।
১৯৭১ সাল থেকে অব্যাহতভাবে ভারত রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাগুলিতে যুক্ত থাকে (যেমন মুক্তিযুদ্ধ, সীমান্ত সমস্যা, পানি চুক্তি)।
২০২৪–২৫-এর কোটা আন্দোলন ও ক্ষমতার রদবদলের সময় বিদেশি পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়েও অনেক বিশ্লেষক সন্দিহান।
জাহিদুল ইসলাম দাবি করছেন, গোপন ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উৎসবগুলো অর্থ, প্রেরণা ও প্রশাসনিক সমর্থন পেতে পারছে বিদেশি ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে।
তিনি প্রশাসনকেও আড়ালে রাখছেন এবং অভিযোগ করছেন যে প্রশাসনের কিছু অংশ তাদের উদ্দেশ্যে কাজ করছে।
শিবির সভাপতি বলেন: “আবরার আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাননি … সেই চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধারণ করবে।”
ফেনী সমাবেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই মানে হাসিনার পতন নয়; জুলাই মানে ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে থাকা।”
প্রতিক্রিয়া:
কালের কণ্ঠ এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে, “আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ভয়ংকর রাজনীতির এক কালো অধ্যায়; আমরা আওয়ামী লীগের ভূমিকা বিচার দাবি করি।”
সামাজিক ও বিরোধী মহলে এ ধরনের দাবির প্রতি skepticism রয়েছে—কারণ প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।
প্রায় একই সময়ে পাবনায় ছাত্র হত্যা মামলায় ১৩৬ জনের নামে চার্জশিট দায়ের হয়েছে — এ ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যুকে আরও জোরে তুলে ধরে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ: বিদেশি হস্তক্ষেপ বা গোপন অর্থ সম্পর্কিত দাবিগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি।
স্বচ্ছতা ও তথ্য খোলামেলা প্রকাশ: রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন উভয়কে তথ্যপ্রদানে প্রবল হতে হবে — কোন অর্থ কোথা থেকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন কি, ইত্যাদি।
শিক্ষা-সংগঠন ও স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক ভূমিকা: ছাত্রসংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও স্বাধীন সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ — তারা তথ্য সংগ্রহ ও প্রেক্ষাপট উপস্থাপনে কাজ করতে পারে।
আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ সোহলতা: গণআন্দোলন হোক সংলাপমূলক—বিক্ষোভ হোক শান্তিপূর্ণ; কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
আন্তর্জাতিক নজর এবং কূটনৈতিক ব্যালান্সিং: এমন দাবির ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জটিল হতে পারে; দেশকে সচেতনভাবে স্বার্থবোধে এগোতে হবে।
“ভারতের অর্থায়নে আ.লীগ-ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করছে: শিবির সভাপতি।” যুগান্তর, ৭ অক্টোবর ২০২৫
“আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের সিঁড়ি গঠিত হয়েছে” — আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া, বাংলা ট্রিবিউন
“ক্যানটিনে ঢুকে আবরার ফাহাদের লাশ দেখে আঁতকে উঠলাম” — প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা ঘটনাস্থল থেকে বার্তা
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |