| বঙ্গাব্দ

ভারতের অর্থায়নে গোপন রাজনৈতিক মিছিল? শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের দাবি ও বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-10-2025 ইং
  • 3054047 বার পঠিত
ভারতের অর্থায়নে গোপন রাজনৈতিক মিছিল? শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের দাবি ও বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের দাবি

ভারতের অর্থায়নে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ গোপন মিছিল: কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের দাবী ও প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ”

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

কুমিল্লা নগরীর ইবনে তাইমিয়া স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম’ ও ‘সিরাত পাঠ’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন: আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ভারতের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকাসহ গোপনে ঝটিকা মিছিল করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে এবং প্রশাসনের একটি অংশকে তারা নিজেদের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন:

  • উপদ্রবমূলক জোড়া মিছিল এবং প্রশাসন–দলীয় ক্রিয়াকলাপের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।

  • আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ক্যাম্পাসে গোপন প্রভাব ও নিপীড়নের চিত্র সামনে এনেছে; বিশেষ করে, “ভারত আমাদের দেশে কতটা শিকড় গেঁড়েছিল, সেই সুরাহা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।”

  • আবরার ফাহাদের শহীদত্ব প্রজন্মকে জাগ্রত করেছে; তিনি বলেন, “অদূর ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস বা কোথাও কোনো ধরণের আধিপত্যবাদ বা নিপীড়ন বিরাজ করা সম্ভব হবে না।”

  • ২০২৪-এর জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে প্রায় ১,৫০০ জন (শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অন্যান্য শ্রেণি) নিহত দাবি ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি।

  • সরকারের প্রতি অনুরোধ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ আরও তৎপর ও সচেতন রাখার নির্দেশ, যেন নতুন রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা না যায়।

  • “প্রয়োজনে শহীদ হবো, তবুও অন্যায়ের কাছে মাথানত করা যাবে না” — শিবির নেতা এই সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য বলেন ফেনীতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে। 

  • শিবির সভাপতি আরও বলেন, “ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, আমরা বিজয় পেয়েছি; এখন ছাত্রশিবিরের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে; ডাকসু ও জাকসুতে জয় পেয়েছি।” 


প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ ও বিশ্লেষণ

আবরার ফাহাদ হত্যা ও আন্দোলন

  • ৬ অক্টোবর ২০১৯ রাতেই বুয়েট শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার রুমমেটরা গ্রুপভাবে তাকে ডেকে নিয়ে সংঘযুক্তভাবে নির্যাতন চালায়।

  • হত্যার পর ঢাকা, বুয়েট ও অন্যান্য ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। 

  • ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়; পরে হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রাখে (১৬ মার্চ ২০২৫)। 

  • আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতের সম্ভাব্য প্রভাব সংক্রান্ত মত প্রকাশ: শিবির সভাপতি ও অন্যান্য সাপেক্ষ বক্তারা দাবি করেছেন যে হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র ছাত্ররাজনীতির ঘটনা নয়, বরং বিদেশি হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক ম্যানিপুলেশনও এর পিছনে রয়েছে। 

  • আখতার হোসেন (জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব) মন্তব্য করেছেন আবরার ফাহাদ “বাংলাদেশের পক্ষের ঐক্যের প্রতীক” হিসেবে; তার দাবি, তার হত্যা ভারতের আগ্রাসন ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। 

  • সালাহ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আবরারের আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে আজকের আন্দোলন একপ্রকার “জুলাই অভ্যুত্থানের সিঁড়ি” গড়েছে — ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যে সংগ্রাম, তার ধারাবাহিকতা এই ঘটনার মধ্যে। 

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারতীয় হস্তক্ষেপ দাবি

  • বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতীয় প্রভাব ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুরাতন।

    • ১৯৭১ সাল থেকে অব্যাহতভাবে ভারত রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাগুলিতে যুক্ত থাকে (যেমন মুক্তিযুদ্ধ, সীমান্ত সমস্যা, পানি চুক্তি)।

    • ২০২৪–২৫-এর কোটা আন্দোলন ও ক্ষমতার রদবদলের সময় বিদেশি পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়েও অনেক বিশ্লেষক সন্দিহান।

  • জাহিদুল ইসলাম দাবি করছেন, গোপন ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উৎসবগুলো অর্থ, প্রেরণা ও প্রশাসনিক সমর্থন পেতে পারছে বিদেশি ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে।

  • তিনি প্রশাসনকেও আড়ালে রাখছেন এবং অভিযোগ করছেন যে প্রশাসনের কিছু অংশ তাদের উদ্দেশ্যে কাজ করছে।

বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

  • শিবির সভাপতি বলেন: “আবরার আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাননি … সেই চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধারণ করবে।”

  • ফেনী সমাবেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই মানে হাসিনার পতন নয়; জুলাই মানে ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে থাকা।” 

  • প্রতিক্রিয়া:

    • কালের কণ্ঠ এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে, “আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ভয়ংকর রাজনীতির এক কালো অধ্যায়; আমরা আওয়ামী লীগের ভূমিকা বিচার দাবি করি।” 

    • সামাজিক ও বিরোধী মহলে এ ধরনের দাবির প্রতি skepticism রয়েছে—কারণ প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।

    • প্রায় একই সময়ে পাবনায় ছাত্র হত্যা মামলায় ১৩৬ জনের নামে চার্জশিট দায়ের হয়েছে — এ ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যুকে আরও জোরে তুলে ধরে। 


সুপারিশ ও চ্যালেঞ্জ

  • নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ: বিদেশি হস্তক্ষেপ বা গোপন অর্থ সম্পর্কিত দাবিগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি।

  • স্বচ্ছতা ও তথ্য খোলামেলা প্রকাশ: রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন উভয়কে তথ্যপ্রদানে প্রবল হতে হবে — কোন অর্থ কোথা থেকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন কি, ইত্যাদি।

  • শিক্ষা-সংগঠন ও স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক ভূমিকা: ছাত্রসংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও স্বাধীন সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ — তারা তথ্য সংগ্রহ ও প্রেক্ষাপট উপস্থাপনে কাজ করতে পারে।

  • আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ সোহলতা: গণআন্দোলন হোক সংলাপমূলক—বিক্ষোভ হোক শান্তিপূর্ণ; কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

  • আন্তর্জাতিক নজর এবং কূটনৈতিক ব্যালান্সিং: এমন দাবির ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জটিল হতে পারে; দেশকে সচেতনভাবে স্বার্থবোধে এগোতে হবে।

সূত্র

  1. “ভারতের অর্থায়নে আ.লীগ-ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করছে: শিবির সভাপতি।” যুগান্তর, ৭ অক্টোবর ২০২৫ 

  2. “আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের সিঁড়ি গঠিত হয়েছে” — আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া, বাংলা ট্রিবিউন

  3. “ক্যানটিনে ঢুকে আবরার ফাহাদের লাশ দেখে আঁতকে উঠলাম” — প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা ঘটনাস্থল থেকে বার্তা 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency