ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম আটক: গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানালো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গিয়ে বাংলাদেশি বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ এক লিখিত বার্তায় বলেন,
“ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী বছরের পর বছর নির্বিচারে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। শহিদুল আলমের মতো মানবিক কর্মীর গ্রেপ্তার নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতির বিরুদ্ধে নগ্ন আঘাত।”
ঘটনার সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা উদ্যোগ ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে গাজামুখী পথে রওনা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
এই অভিযানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন শহিদুল আলম, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করছেন।
কিন্তু বুধবার রাতের দিকে ইসরাইলি নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলাটিকে আটক করে। পরবর্তীতে শহিদুল আলমসহ সকল যাত্রীকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ও BBC Arabic-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিবৃতিতে বলা হয়,
“আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পাঠানোর পথে কোনো বাধা দেওয়ার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। ইসরাইলি বাহিনীর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
সংগঠনটি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন (OHCHR), এবং রেড ক্রসসহ বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—
“শহিদুল আলমসহ আটক সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।”
সংগঠনটি বাংলাদেশের সরকারের প্রতিও জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়,
“বাংলাদেশের নাগরিক শহিদুল আলমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিসরে জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।”
গত দুই বছরে ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে বলে UN OCHA (United Nations Office for the Coordination of Humanitarian Affairs) জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ইতিমধ্যে ফ্লোটিলা আটক প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “মানবিক সহায়তায় বাধা প্রদান আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী।”
২০১০ সালেও ‘মাভি মারমারা’ নামের একটি মানবিক নৌবহরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নয়জন মানবিক কর্মী নিহত হন, যা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দিত হয়েছিল।
শহিদুল আলম এই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মানবিক সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শহিদুল আলমের আটক বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার আন্দোলনের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
তিনি কেবল একজন আলোকচিত্রী নন—গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো—গাজা ইস্যু এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বৈশ্বিক মানবতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মও এই ঘটনার প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন শহিদুল আলমের আটককে মানবাধিকারবিরোধী বলে অভিহিত করেছে।
তারা বলেছে, “মানবতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অপরাধ নয়; বরং এটি বিশ্ববিবেকের দাবি।”
বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুগান্তর – “ইসরাইলি বাহিনীর হাতে শহিদুল আলম আটক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিন্দা।”
বাংলাদেশ প্রতিদিন – “শহিদুল আলমসহ আটক মানবিক কর্মীদের মুক্তি দাবি।”
BBC / Al Jazeera / UN OCHA – “Freedom Flotilla detained by Israeli navy; concern over humanitarian access.”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |