| বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের দাবি ও সেনাবাহিনীর ঘোষণা: গুম-খুন মামলায় ১৫ কর্মকর্তা হেফাজতে, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-10-2025 ইং
  • 3020483 বার পঠিত
জামায়াত আমিরের দাবি ও সেনাবাহিনীর ঘোষণা: গুম-খুন মামলায় ১৫ কর্মকর্তা হেফাজতে, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমিরের দাবি

জামায়াত আমিরের দাবি: ‘গুম-খুনে জড়িত’ কিছু সেনা কর্মকর্তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু—সেনাবাহিনী বলছে ১৫ কর্মকর্তা হেফাজতে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা | ১২ অক্টোবর ২০২৫, রোববার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার সকালে তাঁর যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে এবং অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়েছে—এ উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, কিছু ব্যক্তির অপরাধের দায়ে পুরো প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করা উচিত নয় এবং স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে দোষীদেরই শাস্তি হওয়া দরকার। 

এর ঠিক আগে/পরে, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা সামরিক হেফাজতে রয়েছেন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এর আগে ৮ অক্টোবর আইসিটি দুইটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে; বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। কে কতজন—এই সংখ্যায় প্রতিবেদনভেদে ভিন্নতা থাকলেও (The Daily Star: ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন; TBS: মোট ৩০ জন) মূল বার্তাটি একই—আইনগত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। 

কে কী বলেছে—কখন

  • ১২ অক্টোবর ২০২৫: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুকে লিখেন, “বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে… সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে; অভিযুক্তরা হেফাজতে।” (সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি) 

  • ১১ অক্টোবর ২০২৫: সেনাবাহিনী জানায়, আইসিটি মামলাগুলোর পরোয়ানাভুক্ত ১৫ কর্মকর্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। 

  • ৮ অক্টোবর ২০২৫: আইসিটি দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে; পুলিশ সদর দফতর পরোয়ানা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে। 

ঘটনাপ্রবাহের পটভূমি (১৯৫০–২০২৫): অধিকারের প্রশ্ন, আইন ও জবাবদিহি

  • ভাষা আন্দোলন (১৯৫২) থেকে নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি পোক্ত হয়; ১৯৭২ সংবিধানের মূলনীতিতেই মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি।

  • Special Powers Act, 1974 ও সংবিধানের সংশোধনসমূহে ‘প্রিভেনটিভ ডিটেনশন’—বিচার ছাড়াই আটক—বহু বছর ধরে বিতর্কিত থেকে এসেছে। গবেষণা/প্রতিবেদনে এ আইনের অপব্যবহারের সমালোচনা আছে।

  • ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীতে সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন।

  • ২০০৯–২০২৩: মানবাধিকার সংগঠনগুলো গুম-খুন-নির্যাতনের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানায়; ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি নিষেধাজ্ঞা দেয়—জবাবদিহি প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়ে যায়। 

  • ২০২৪: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। একই বছরের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ Enforced Disappearance-বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনে অ্যাকসেশন দেয়—এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। 

  • ২০২৫: আইসিটিতে মামলাগুলোতে অভিযোগ গঠন/পরোয়ানা, এবং সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার ঘোষণা—গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে ‘আইনপথে জবাবদিহি’ পর্যায়ে নতুন অধ্যায়। 

কেন এখন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

প্রথমত, সামরিক বাহিনীর নিজস্ব ঘোষণায় (হেফাজতে নেওয়া) ও আইসিটির আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপে অভিযোগগুলো রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার আওতায় এসেছে—এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ‘সত্য-ন্যায়-ক্ষতিপূরণ’ দাবি প্রাতিষ্ঠানিক পথ পায়। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে জামায়াতের মতো দলীয় শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য সমর্থন সামাজিক-রাজনৈতিক সম্মতি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে—শর্ত, বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও মানবাধিকার মানদণ্ডসম্মত। 

সামনে কী

  • স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায্য বিচার: আইসিটির মামলাগুলোতে ফরেনসিক প্রমাণ, ভিকটিম-উইটনেস প্রটেকশন, ডিফেন্সের ‘ডিউ প্রসেস’—সবই সমান জরুরি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ প্রক্রিয়ায় মানদণ্ড বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। 

  • প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: ২০২৪ সালের কনভেনশনে যোগদানের ধারাবাহিকতায় ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স প্রতিরোধ-প্রতিকার’ আইনি কাঠামো বাস্তবায়ন, এবং প্রিভেনটিভ ডিটেনশন আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে পর্যালোচনা। 


সূত্র

  1. The Daily Star: আইসিটি মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের হেফাজতে নেওয়ার ঘোষণা/পরোয়ানা প্রসঙ্গ। 

  2. The Business Standard: জামায়াত আমিরের ফেসবুক পোস্ট—বিচারপ্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতাকে স্বাগত। 

  3. UN Treaty Collection: বাংলাদেশ ICPPED-এ Accession (২৯ অগাস্ট ২০২৪), কার্যকর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪। 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency