প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা | রোববার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
টানা দুই বছরের রক্তক্ষয়ের পর গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বন্দি–বন্দি বিনিময় ও মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন চলছে। পরবর্তী ধাপ—শাসনব্যবস্থার নকশা—নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসন দেখবে ‘ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি’, কিন্তু অর্থনীতি–প্রতিরক্ষা–সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত রেফারি হবে ট্রাম্পের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক “বোর্ড অব পিস”; এতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকেও রাখা হতে পারে।
এদিকে হামাসসহ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে—বিদেশি শাসন–তত্ত্বাবধান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না; গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো হবে “শুধুই ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়”।
প্রথম ধাপ: যুদ্ধবিরতি, বন্দি–বন্দি/নিহতদের মরদেহ বিনিময়, আংশিক ইসরায়েলি প্রত্যাহার; রফাহ–কেরেম শালোম দিয়ে বড় পরিসরে ত্রাণ প্রবেশ। পরের ধাপগুলোতে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (ISF) মোতায়েন, “টেকনোক্র্যাট কমিটি”, ওপর থেকে “বোর্ড অব পিস” তত্ত্বাবধান—আরো বিস্তারিত রূপরেখা আছে প্রকাশিত দলিলে/গাইডে।
মিশরের আমন্ত্রণে সোমবার (১৩ অক্টোবর) শারম আল-শেখে শান্তি–সম্মেলনে ট্রাম্প–সিসি যুগ্মভাবে সভাপতিত্ব করবেন; জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের কিয়ের স্টার্মার, ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের পেদ্রো সানচেজ, ফ্রান্সের এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইইউ কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাসহ ২০টির বেশি দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু থাকবেন কি না—এখনও অনিশ্চিত।
জনসম্মতির ঘাটতি (ফিলিস্তিনি পক্ষ): বিদেশি তত্ত্বাবধানকে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যান—গভর্নেন্সের বৈধতা প্রশ্নে প্রথম বড় বাধা।
ইসরায়েলি রাজনীতির সিগন্যাল: ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ইসরায়েলি সংসদ ৬৮–৯ ভোটে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ধারণার বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করে—এই প্রেক্ষাপটে ‘চূড়ান্ত সমাধান’ অর্জন দুরূহ।
বোর্ড–আইএসএফের ‘চেইন অব কমান্ড’ অস্পষ্টতা: ISF কার কাছে জবাবদিহি করবে—জাতিসংঘ, নাকি “বোর্ড অব পিস”? এই দ্বৈত–কেন্দ্রিক নকশা বাস্তবায়নে সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে। (প্রস্তাবনাপত্র/বিশ্লেষণগুলোতেও এদিকটি খোলা–প্রান্তিক।)
টনি ব্লেয়ারের ভূমিকা নিয়ে আস্থাহীনতা: ইরাক–উত্তর ঐতিহ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে আগের ম্যান্ডেট–অভিজ্ঞতা—দাঁড়িয়ে আছে সমালোচনার মুখে; ‘বোর্ড অব পিস’-এ ব্লেয়ারের সম্ভাব্য ভূমিকা ঘিরে সন্দেহ বেশি, সমর্থন কম।
সময়সীমা–পরিমাপের ঘাটতি: কোন ধাপ কখন সম্পন্ন না হলে যুদ্ধবিরতি ‘স্থগিত/বাতিল’ হবে—এখানে ইসরায়েলের একতরফা মূল্যায়নের সুযোগ আছে—বিশ্বাসের ঘাটতি বাড়ায়। (বিশ্লেষণ)
আইন–অধিকার প্রেক্ষাপট: জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বহুবার ‘গণহত্যার ঝুঁকি/আনফোল্ডিং জেনোসাইড’ সতর্ক করেছেন; আইসেজে (ICJ) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ আদেশে ‘জেনোসাইড প্রতিরোধে’ বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলে—এ বাস্তবতার সঙ্গে নতুন ফ্রেমওয়ার্কের সামঞ্জস্য নিশ্চিত না হলে টেকসই সমাধান মিলবে না।
নোট: “জাতিসংঘ গাজায় ‘গণহত্যা’ ঘোষণা করেছে”—এমন কোনো সর্বসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; তবে জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ/কমিশনের কঠোর ভাষ্য রয়েছে এবং আইসেজে ‘সম্ভাব্যতার’ ভিত্তিতে প্রভিশনাল মেজারস দিয়েছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা–কূটনীতি বিশ্লেষক ইজাজ হায়দার লিখেছেন—এই ২০ দফা দখলদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্ব মুছে দেয়, বর্ণবৈষম্যকে বৈধ করে এবং কূটনীতির মোড়কে গণহত্যাকে ‘স্বাভাবিক’ করার ঝুঁকি আনে; ফলে স্থিতিশীলতার বদলে অস্থিতিশীলতা বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মাইক পেন্স (AIPAC, ২০২০): “If the world knows nothing else… America stands with Israel.”—অর্থাৎ ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’র দাবির ভেতরে পক্ষপাত স্পষ্ট। মোহাম্মদ বিন সালমান (২০১৮): “ফিলিস্তিনিরা দশকের পর দশক সুযোগ হারিয়েছে; এখন প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করে আলোচনায় বসুক—না হলে চুপ থাকুক।”
বাহরাইনের উপসচিব শেখ আবদুল্লাহ (MSC, ২০২২): “মোসাদ বাহরাইনে আছে এবং এই অঞ্চলে সক্রিয়।”—অর্থাৎ আব্রাহাম–উত্তর নিরাপত্তা–সমীকরণ গাঢ়। ইসরায়েলি কনসেনসাস (কনেস্ট, ২০২৪): “জর্ডানের পশ্চিমের ভূখণ্ডে (গাজা–পশ্চিম তীর) নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে থাকা চাই”—রাষ্ট্র–ধারণার বিরুদ্ধে ৬৮–৯ ভোটে প্রস্তাব।
ফিলিস্তিনি সম্মতি ছাড়া কোনো ‘ট্রাস্টিশিপ’ নয়—অন্তর্বর্তী কাঠামোয় প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি/সম্মত প্রযুক্তিবিদ সরকারকে প্রধান্য।
ISF–এর স্পষ্ট জবাবদিহি–রেখা (UN ম্যান্ডেট/রিপোর্টিং) ও কাটঅফ টাইমলাইন।
পুনর্গঠন–মানবিক সহায়তার গ্যারান্টি—ব্লকেড–নিয়ন্ত্রণ (রাফাহ/ফিলাডেলফি) বিষয়ে স্বচ্ছ চুক্তি।
অধিকার–বিচার: ICJ–আদেশ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা, ওয়ার–ক্রাইম জবাবদিহি—সবই ‘ডিল–আর্কিটেকচারে’ বসাতে হবে।
সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্বস্তি আনলেও ২০ দফা পরিকল্পনার রাজনৈতিক–আইনি নকশা দ্বিমত–বিভাজন দিয়ে শুরু হয়েছে—ফিলিস্তিনি সম্মতি ছাড়া “বোর্ড অব পিস”–ধাঁচের তত্ত্বাবধান টেকসই হওয়া কঠিন। ইজাজ হায়দারের ভাষায়, “lasting peace” নয়, বরং “institutionalised control”–এর ঝুঁকি থেকে গেছে। পরিকল্পনা তাই সফল হবে কি না—তার উত্তর নির্ভর করছে ফিলিস্তিনি স্বীকৃতি, আইনি বৈধতা, স্পষ্ট টাইমলাইন আর বাস্তব জবাবদিহির ওপর।
Reuters / Al Jazeera (১২ অক্টোবর ২০২৫): যুদ্ধবিরতি–সম্মেলন, ‘বিদেশি তত্ত্বাবধান’ প্রত্যাখ্যান, অংশগ্রহণসূচি।
The Guardian (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৫): ২০ দফার খসড়া–ব্যাখ্যা, টনি ব্লেয়ারের সম্ভাব্য ভূমিকা, লাইভ আপডেট।
Dawn (ইজাজ হায়দার, ১২ অক্টোবর ২০২৫): “Why Trump’s Gaza Plan Will Fail”—সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |