এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘কালো পতাকা মিছিল’: বাড়িভাড়া-ভাতা ও জাতীয়করণের দাবিতে দৃঢ় অবস্থান
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকা শহীদ মিনার থেকে মিছিল শুরু করে এমপিওভুক্ত (Monthly Pay Order) শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠন। মিছিল হাইকোর্ট সংলগ্ন কদম ফোয়ারার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে পরিণত হয়।
এই মিছিলে তারা নিয়ে এসেছে মূলত তিনটি দাবি:
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা
চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি (বর্তমানে যা অনেক কম, তারা চাইছেন ১,৫০০ টাকা-র মতো ক্ষেত্রে বাড়ানো হোক)
উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হোক
সঙ্গে রয়েছে আরো একটি বড় দাবিঃ সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ।
এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বহু শিক্ষক-কর্মচারী। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে সংগঠিত বেশ বড় অংশ ‘আমরণ অনশন’ চালিয়ে যাচ্ছেন শহীদ মিনার জুড়ে।
এসময় গণঅধিকার পরিষদ-র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন মিছিলে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি দাবিগুলো পূরণের আহ্বান জানান।
তারা আগামী রোববার “মার্চ টু যমুনা” কর্মসূচি পালন করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
এই সময়-সন্ধিক্ষণে শিক্ষকদের এই দাবি শুধুই আবেগ-ভিত্তিক নয়—আইনি, অর্থনৈতিক ও ন্যায্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি মূল বিষয় নিচে তুলে দেওয়া হলো:
বর্তমান এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা অনেকাংশে নিম্নমানের। বিভিন্ন বিশ্লেষণ বলছে, সরকারী শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গে তুলনায় এই ভাতা স্কেল অনেক কম।
যেমন একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—“হাউস রেন্ট এলাউন্স মিনিমাম ২০ % মূল বেতনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত”, এবং “চিকিৎসা ভাতা মাসিক ১,৫০০ টাকা হওয়া দাবি করা হচ্ছে”।
সরকারের প্রস্তাবনায় অতিক্রম করে বলা হয়েছে—বাড়িভাড়া ভাতা হয়তো ১,০০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকায় গেলে ভালো হবে। কিন্তু শিক্ষকরা বলছেন, এটা যথেষ্ট নয়।
আন্দোলনের আরেকটি মূল দাবি হল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ—এটি শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
এই আন্দোলনের সময়কালের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি:
ঘর ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে গেছে—শিক্ষকদের বেতন-ভাতা যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানে কর্মী মনোবল উভয়েই প্রভাবিত হবে।
আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে ‘কালো পতাকা মিছিল’ স্লোগানযুক্ত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে—এটি শুধুই প্রতিবাদ নয়, চিন্তার ধারা উৎভেষ্টা করছে যে “শিক্ষকরা আমাদের সমাজ ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; কর্মী ভাবনায় তারা উপেক্ষিত হচ্ছেন।”
যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ কথা বলা হচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—নিবন্ধিত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থিতিশীলতা ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে।
সরকারের প্রকাশিত প্রস্তাব ও শিক্ষকদের দাবির মধ্যে গণিতগত ও নৈতিকফাঁক রয়েছে—শিক্ষকরা বলছেন, শুধুই একটি নির্ধারিত সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ নয়; মূল বেতনের সাপেক্ষে হার নির্ধারণ হোক।
এই আন্দোলন শুধু একটি ভাতা বাড়ানোর লড়াই নয়—এটি শিক্ষকের মর্যাদা, আন্দোলন-সংগঠনের শক্তি ও শিক্ষাব্যবস্থার ন্যায্যতা বিষয়ে সামাজিক সংকেত দিচ্ছে।
শিক্ষক-কর্মচারীর মূল্যায়ন যদি হয় সমান ও সুবিচারভিত্তিক, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আরও শক্ত হবে।
এই মিছিল ও কর্মসূচি যদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বাজেট ব্যয় নিশ্চিত করে, তাহলে এটি শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
“MPO-listed teachers rally in Dhaka for 45% house rent allowance, other demands”, The Business Standard, 13 August 2025।
“MPO teachers issue one-month ultimatum for allowance hike”, New Age, [তারিখ সহ]।
“MPO-listed teachers: What are their demands?”, The Business Standard (explainer)।
“MPO-listed teachers call ‘March to Jamuna’ again”, bdnews24.com, 18 October 2025।
“MPO-listed teachers movement enters 7th day pressing for…”, Jagonews24.com.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |