| বঙ্গাব্দ

“নির্বাচনের আগে প্রশাসন-উপদেষ্টা বদলানোর দাবি করেছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ”

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-10-2025 ইং
  • 3807460 বার পঠিত
“নির্বাচনের আগে প্রশাসন-উপদেষ্টা বদলানোর দাবি করেছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ”
ছবির ক্যাপশন: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

নির্বাচনের আগে দলীয় উপদেষ্টা-প্রশাসনের পরিবর্তন জরুরি” — ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ-র দাবি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন যে নির্বাচন আয়োজনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে থাকা দলীয় উপদেষ্টা ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের বদলানো অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, “কোনো আইনের ভিত্তিতে নয়; ছাত্র-জনতার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের রক্তের মধ্য দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছেন। তাই কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তির ওপর নয়, ড. ইউনূসকে দায়বদ্ধ থাকতে হবে দায়-বোধের ওপর। আর সে দায়বোধ হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। তবে নির্বাচন আয়োজনের আগে অবশ্যই সরকারের মধ্যে থাকা দলীয় উপদেষ্টা ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের বদলাতে হবে—কারণ দল-নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আজ সকালে আইআরআই (মার্কিন গবেষণা সংস্থা) প্রতিনিধিরা আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে কিনা? উত্তরে বলেছি- আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। আমাদের প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। নির্বাচন এলাকায় গিয়েও প্রচারণা করতে পারছি না। সরকার বলেছে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে—but এখনো তা হয়নি। এই অবস্থায় আমরা কিভাবে নির্বাচন অংশগ্রহণ করব?”

এ সময় সভায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলছেন, আগামী নির্বাচন সবচেয়ে সুন্দর, গ্রহণযোগ্য হবে। আমরা তাঁর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না—আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, মোবারক হোসেন আজাদ ও আরও অনেকে।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

এই দাবিটি শুধুই এক রাজনৈতিক দল-নেতার বক্তব্য নয়, বরং বর্তমানে চলমান “অন্তর্বর্তী সরকার” ও নির্বাচনী প্রস্তুতির পরিস্থিতিকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে। নিচে তার বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

১. ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ ও ন্যায়-নির্বাচনের অবস্থা
– বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। 
– অনেক রাজনৈতিক দল ও সমালোচক মনে করছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ২১ অক্টোবর ২০২৫-এ প্রস্তাব দিয়েছে “সরকারকে সম্পূর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো কার্যকর করতে হবে” এবং সরকারের মধ্যে দলীয় উপদেষ্টা বা প্রশাসনের যোগসাজশ থেকে মুক্ত হতে হবে। 

২. প্রশাসন-নির্বাচন সংযোগ ও বিশ্বাসের সংকট
– নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু ভোটকেন্দ্র নয়, প্রশাসনের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণই বড় বিষয়। জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ইত্যাদি পদগুলো স্থানীয় নির্বাচনে অনেক সময় গতানুগতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিত হয়।
– বক্তা জানান, সার্বিকভাবে “দল-নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।” এই কথা উত্তেজক ইঙ্গিত বহন করে—কারণ এ দাবি মানে শুধুই রাজনৈতিক দল নয়, প্রশাসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া-স্বাতন্ত্র্যও নির্বাচন ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।

৩. মিথ্যা মামলা-আন্দোলন ও অংশগ্রহণের বাধা
– বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে- “মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করা যাচ্ছে না, প্রচারণায় বাধা রয়েছে।” এই ধরনের অভিযোগও নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
– নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও অনেক দল সময়মতো সুযোগ পাচ্ছে না—এটি ভবিষ্যতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বড় উদ্বেগ।

৪. রাজনৈতিক-প্রাসঙ্গিক সময়সূচি
– এই দাবিটি প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলন, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচন প্রস্তুতি একসাথে রয়েছে।
– মূল্যবান যে বিষয়– নির্বাচন আয়োজনের আগেই প্রশাসন-সংক্রান্ত সংস্কার দাবি করা হচ্ছে। এটি ১৯৫০–৭০ দশক থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল নয়—যেমন ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত দাবি। তাই আজকের প্রেক্ষাপট-ই ঐতিক্য বহন করে।


এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রভাব ও দৃষ্টিকোণ

  • যদি প্রশাসন-উপদেষ্টা পরিবর্তনের দাবি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা বিশ্বস্ততা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে।

  • অন্যদিকে, যদি এটি না হয়, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

  • আজকের দাবি শুধু একটি দল-নেতার কথা নয়; এটি নির্বাচন, প্রশাসন ও গণভবিষ্যতের বিশ্বাস-এর সংযোগে উঠে এসেছে।


উপসংহার

বয়সে যেকোনো প্রজন্মই বলছে—“দল-উপদেষ্টা-প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা নির্বাচনকে প্রভাবিত করে।” অর্থাৎ আজ যে দাবিটি তুলছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, তা শুধু একটি নেতা-বক্তব্য নয়, একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান। নির্বাচন যদি হয় সবার অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু—তাহলে সেই পথ প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর দিয়ে যেতে হবে। সেই অর্থেই প্রশাসন-উপদেষ্টা-নিয়োগের বিষয়ে আজ উচ্চ স্তরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার গুরুত্ব অপরিসীম।

সূত্র

  1. “Assume role of caretaker govt, remove ‘party-affiliated’ …” – Prothom Alo, 2025 Oct. 

  2. Profile – Barrister Anisul Islam Mahmud, Jatiya Party / Bangladesh Parliament. 

  3. “Bangladesh’s new blame game” – IANS Analysis, 2025. 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency