| বঙ্গাব্দ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাতির উদ্বেগ: তদন্তে নাশকতার আশঙ্কা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-10-2025 ইং
  • 2892650 বার পঠিত
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাতির উদ্বেগ: তদন্তে নাশকতার আশঙ্কা
ছবির ক্যাপশন: ডা. শফিকুর রহমান এ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাতীয় উদ্বেগ: নাশকতা নাকি অব্যবস্থাপনা?

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন,
“দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে এই বিমানবন্দর কেবল যাত্রী পরিবহনের কেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির প্রতীক। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিরপুর ও চট্টগ্রামের ইপিজেডে অগ্নিকাণ্ডের পর আবারও কার্গো ভিলেজে আগুন—এটা কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতা—এ প্রশ্নে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতির স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি গাফিলতি বা নাশকতার কোনো উপাদান থেকে থাকে, তবে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, কর্তৃপক্ষ নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা দুই দিক থেকেই তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ টিম বিদেশ থেকেও আনা হবে।”

ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাজধানীর মিরপুর, চট্টগ্রামের ইপিজেড, এবং সর্বশেষ বিমানবন্দর এলাকায় পরপর আগুন লাগার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত কর্মী, ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম নিশ্চিত না থাকলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো কঠিন।”

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায়। বিকেল নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে কয়েকটি গুদামে বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি

আমদানিকারক সমিতির একজন প্রতিনিধি বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আস্থা নষ্ট করে। বিমানবন্দর কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।”

জামায়াত আমিরের মানবিক আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যাত্রী ও কর্মীদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
তিনি দোয়া করে বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় দেশকে সকল দুর্ঘটনা, বিপর্যয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।”


সূত্র:

  1. বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর

  2. বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)

  3. জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় দপ্তর ও গণমাধ্যম বিবৃতি

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency