তফসিলের আগেই জোটযুদ্ধ: বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি–এবি—তিন মেরুর নতুন সমীকরণে ত্রয়োদশ নির্বাচন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মেরুকরণ অনেকটাই স্পষ্ট—আর সেটি মূলত তিনটি বড় ধারায়:
১) বিএনপি–কেন্দ্রিক ‘বৃহত্তর জোট’,
২) জামায়াতে ইসলামী–নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থি সমঝোতা,
৩) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)–কেন্দ্রিক নতুন বিকল্প জোটের উদ্যোগ।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে নানা সময়ে জোট রাজনীতি বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদল নির্ধারণ করেছে। ১৯৫৪–এর যুক্তফ্রন্ট, ১৯৯০–এর সাত–আট–পাঁচ দলের ঐক্য, ২০০১–এর চারদলীয় জোট, ২০১৮–এর মহাজোট বনাম জোট—সব কিছুর ধারাবাহিকতায় ২০২৪–এর জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে এখন আবারো বহুমেরু জোট রাজনীতি নতুন আকারে সামনে এসেছে।
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, এবি পার্টি, বাম জোট, ১২–দল, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণফোরাম, বিভিন্ন ইসলামপন্থি দল—সব মিলিয়ে সমীকরণ এতটাই জটিল যে, তফসিল ঘোষণার আগেই ভোট–পূর্ব জোট–রাজনীতি হয়ে উঠেছে দেশের আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই চার্টারকে কেন্দ্র করে গণভোট একসঙ্গে করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখেই সব জোট নিজেদের হিসাব–নিকাশ গোছাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ফল নির্ধারণে বড় দলগুলোর একার শক্তির চেয়ে জোটের ভোট–ব্যবস্থাপনা ও আসন–সমঝোলাই বেশি প্রভাব ফেলতে পারে; বিশেষ করে যেখানে কয়েকটি ছোট দলের ২–৩ শতাংশ ভোটও কোনো আসনে জয়–পরাজয় বদলে দিতে পারে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির নেতৃত্বে একটি বৃহৎ নির্বাচন–কেন্দ্রিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
তার ভাষায়,
ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল ও জোট ছাড়াও, হাসিনা সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন অতিরিক্ত দলগুলোর সঙ্গেও ধারাবাহিক আলাপ–আলোচনা চলছে। “ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনি জোটে আসতে চাইবে, তাদের সবাইকেই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।”
বিএনপির কৌশল–
১২–দলীয় জোট,
গণতন্ত্র মঞ্চ (জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ইত্যাদি),
বিএনপি–ঘনিষ্ঠ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), এনডিএম, ১১–দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট,
বাম গণতান্ত্রিক জোটের কিছু অংশ,
গণফোরাম, লেবার পার্টি, বিপিপি,
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিসসহ ইসলামপন্থি দল
এসবকে একটি ‘বড় ছাতা জোটে’ টেনে আনার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া হাটহাজারী মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ছারছীনা পীর, আলিয়া মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম সমাজ—এদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপি–কর্তৃত্বাধীন আলোচনাকারী টিম। লক্ষ্য, আলেম সমাজ ও তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রভাবকে নির্বাচনি রাজনীতিতে নিজের পক্ষে কাজে লাগানো।
উইকিপিডিয়া ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নির্বাচনি জোটের ইতি টেনে একক প্রতীক–কেন্দ্রিক কৌশলে ফিরেছে—তবে মাঠের রাজনীতিতে নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন–ট্যাক্টিকস–এর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না কেউই।
গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম দিকে এনসিপির সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কার, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি ইস্যুতে জামায়াতের মিল দেখা গেলেও নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটি আলাদা পথ নিয়েছে। এখন তারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনো সাতটি ইসলামি দল নিয়ে আটদলীয় ইসলামি সমঝোতা গড়েছে।
এই জোটের কৌশল—
“এক আসনে এক প্রার্থী” নীতি,
আসনভিত্তিক জরিপ করে শক্ত দলের প্রার্থীকে অগ্রাধিকার,
জুলাই চার্টারকে বাধ্যতামূলক সংবিধান সংশোধনীতে রূপ দিতে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি,
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উভয় কক্ষেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR)–ভিত্তিক ব্যবস্থা,
আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র জাতীয় পার্টির সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেছেন,
“আমরা কোনো জোট করার সিদ্ধান্ত নেইনি, করবও না। আমরা নির্বাচনি সমঝোতা করব। দেশপ্রেমিক ও প্রতিশ্রুতিশীল যারা আছেন, তারা সংযুক্ত হচ্ছেন; আগামী দিনে আরও অনেক দল এই নির্বাচনি সমঝোতায় যুক্ত হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই।”
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
“বর্তমানে আট দল থাকলেও এটি সম্প্রসারিত হয়ে দশ বা এর বেশি হতে পারে। অনেকেই আমাদের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষে যোগাযোগ করছে।”
২০২৬ নির্বাচন বিষয়ক তথ্য অনুসারে, জামায়াত–নেতৃত্বাধীন এই ব্লক ইতোমধ্যে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও জুলাই চার্টার–ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে একাধিক বড় সমাবেশ করেছে; তবে আনুষ্ঠানিক ভোট–জোটের চেয়ে আসন–সমঝোতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের ছাত্রনেতৃত্ব থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)—এই দুই দলকে ঘিরেই সম্ভাব্য নতুন বিকল্প জোটের কথাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত।
আপনার দেওয়া যুগান্তর তথ্য অনুযায়ী—
এনসিপি ও এবি পার্টিসহ মোট সাতটি দলকে নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের আলোচনা চলছে;
তফসিল ঘোষণার আগেই এই জোটের আত্মপ্রকাশ হতে পারে;
বিএনপি–এনসিপি আসন–সমঝোতার কথাও পর্দার আড়ালে চলেছে, তবে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা অনিশ্চিত।
অন্যদিকে ২০২৬ নির্বাচন–সংক্রান্ত তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণ বলছে—
এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত–নেতৃত্বাধীন ইসলামি ব্লকের সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী নয়;
দলের ভেতরের বাম ঘরানার নেতৃত্ব জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য উচ্চচাপ প্রয়োগ করছে;
এবি পার্টি ইতোমধ্যে ১০০–এর বেশি আসনে প্রার্থী ঘোষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে এবং এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ (গণঅধিকার/জিওপি)–সহ ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’–ঘনিষ্ঠ কয়েকটি দলের সঙ্গে বিকল্প জোট গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব যুগান্তরকে বলেছেন,
“জোট করার এখনো কোনো চিন্তা নেই। যা আছে, তা হলো সংস্কার বিষয়ে একটি অ্যালায়েন্স। নির্বাচন এককভাবেই করার চিন্তাভাবনা রয়েছে এনসিপির।”
অন্যদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন,
“সাতটি দল নিয়ে জোট গঠনের আলোচনা চলমান থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।”
এতে স্পষ্ট—
এনসিপি ধারণাগত সংস্কার–অ্যালায়েন্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে,
কিন্তু এবি পার্টি নির্বাচনি জোটের আনুষ্ঠানিক কাঠামোতেও আগ্রহী,
আর বিএনপি–এনসিপি আসন–সমঝোতার সম্ভাবনা গোপন সৌজন্য–রাজনীতিতে এখনও ‘নরম–কঠিন’ উভয় অবস্থানে।
ছয়–দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট (এলডিএ) ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, তারা একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল ঐক্য গড়তে চায়—যেখানে সিপিবি, বাসদ (দুই অংশ), সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ছাড়াও গণফোরাম, ঐক্য ন্যাপ, জাতীয় গণফ্রন্ট, পাহাড়ি জনসংগঠন, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন–সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ড. কামাল হোসেন–এর গণফোরাম, ঐক্য ন্যাপ, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা (সাম্যবাদী আন্দোলন, বাসদ–মাহবুব, গণমুক্তি ইউনিয়ন ইত্যাদি)–এর সঙ্গেও ঐক্য গড়ার আলাপ চলছে—তবে তা কতটা নির্বাচনি বাস্তবতায় রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের (পূর্ব বাংলাসহ) রাজনীতিতে জোট কোনও নতুন বিষয় নয়—
১৯৫৪–এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
মুসলিম লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ, কৃষক–প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম, গণতন্ত্রী দল–নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের ঝড়ো বিজয় প্রমাণ করে, ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ছড়ানো জনঅসন্তোষকে যদি একটি প্ল্যাটফর্মে আনা যায়, জোটই হতে পারে পরিবর্তনের মাধ্যম।
১৯৯০–এর গণ–অভ্যুত্থান
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি–নেতৃত্বাধীন ৭–দল, আওয়ামী লীগ–নেতৃত্বাধীন ৮–দল আর বাম ৫–দল—এই তিন জোটের সমন্বয়ই সামরিক স্বৈরশাসনের পতন ঘটায়। তখন থেকেই “জোট গড়াই ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ”—এই ধারণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পায়।
২০০১–এর চারদলীয় জোট
বিএনপি–জামায়াতের চারদলীয় জোট ২/৩–এর বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে ক্ষমতায় যায়; ছোট ইসলামপন্থি দলের ২–৩ শতাংশ ভোটও অনেক আসনে ফল বদলে দেয়। বর্তমান সময়েও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনে কিছু ছোট দলের ভোটই একাধিক আসনে ‘কিং–মেকার’ হতে পারে।
২০১৮ ও ২০২৪ নির্বাচন–পরবর্তী সংকট
২০১৮–তে মহাজোটের একতরফা বিজয়, ২০২৪–এর বিতর্কিত নির্বাচন, পরপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে ২০২৪–এর জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পথ তৈরি হয়।
এই পটভূমিতে ২০২৫–এর রাজনীতি নতুন প্রশ্ন তুলেছে—
আওয়ামী লীগ ছাড়া, কিন্তু বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, এবি পার্টি, বাম, ১২–দল, ইসলামি জোট—এতগুলো মেরুর টানাপোড়েনে ত্রয়োদশ নির্বাচন কি আরও বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করবে, নাকি বহুমেরু–গণতন্ত্রের নতুন কাঠামো গড়ার সুযোগ তৈরি করবে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন,
“বিএনপি ও তাদের মিত্র উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে একটি বড় জোট হবে—এটা প্রায় নিশ্চয়তা। মাঠের আন্দোলনে থাকা জামায়াত–নেতৃত্বাধীন আটদলীয় ইসলামি ব্লকের সঙ্গে মূলত নির্বাচনি সমঝোতা থাকতে পারে, জোট নয়।”
তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী—
এনসিপি ও এবি পার্টিসহ কয়েকটি মধ্য–পন্থি ও তরুণ নেতৃত্বের দল একটি পৃথক ‘তৃতীয় মেরু’ গড়ে তুলতে পারে,
একই সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা–নির্ভর আরেকটি প্রগতিশীল জোট সামনে আসার সম্ভাবনাও আছে।
তিনি আরও বলেন,
“এবার যেহেতু সব দলকে নিজেদের প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে, বড় দলগুলো শরিকদের কতটুকু আসন ছাড় দেবে, সেটি নিয়ে হিসাব–নিকাশ বেশি কঠিন হবে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগে জোট–ঘোষণায় কিছুটা সময় নেবে বড় দলগুলো।”
১. বিএনপি+ জোট – কতটি দল, কতটি আসনে ছাড়, জামায়াতের সঙ্গে নরম–কঠিন দূরত্ব—সবকিছুই এখনও আলোচনাতেই।
২. জামায়াত+ আটদলীয় ইসলামি সমঝোতা – জুলাই চার্টার–ভিত্তিক গণভোট ও PR–ব্যবস্থাকে নিজেদের প্রধান ইস্যু করে মাঠে থাকবে; তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও ধর্মীয় রাজনীতির বিতর্কও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
৩. এনসিপি–এবি পার্টি–কেন্দ্রিক বিকল্প জোট – তরুণ ভোটার ও শহুরে মধ্যবিত্তকে টার্গেট করে “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র”, নতুন সংবিধান ও সংস্কার রাজনীতিকে সামনে আনবে; কিন্তু মাঠে সংগঠন ও আসন–দাবির বাস্তবতায় কতটা দূর যেতে পারে, সেটি এখনো পরীক্ষিত নয়।
৪. বাম ও প্রগতিশীল জোটগুলো – শুদ্ধ বিকল্প রাজনীতি, দুর্নীতি–বিরোধী অবস্থান ও সামাজিক ন্যায়ের ইস্যুতে জোর দিচ্ছে; তবে নির্বাচনি গণিতের হিসেবে তারা কতটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারবে, সেটি প্রশ্ন সাপেক্ষ।
শেষ পর্যন্ত, তফসিল ঘোষণার আগেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে—
এ নির্বাচন একক দলের নয়; জোট, সমঝোতা, আসন–বিন্যাস আর জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী জনমানসের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে জোট–রাজনীতির এক কঠিন ও বহুমুখী পরীক্ষামঞ্চ।
১. দৈনিক যুগান্তর অনলাইন – ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও এবি পার্টির সম্ভাব্য জোট–সমীকরণ বিষয়ে প্রকাশিত মূল প্রতিবেদন (উদ্ধৃত অংশ ও বক্তব্যসমূহ)।
২. উইকিপিডিয়া – “2026 Bangladeshi general election”, “National Citizen Party (NCP)”, “Left Democratic Alliance” প্রভৃতি নিবন্ধ; তফসিল–সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট, দল ও জোটগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান, জুলাই বিপ্লব ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গ।
৩. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম – রয়টার্স, এপি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য প্রিন্ট, আল–জাজিরা, দ্য ডিপ্লোম্যাট প্রভৃতি–তে প্রকাশিত প্রতিবেদন; জুলাই বিপ্লব, অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার, এনসিপি–এবি পার্টি ও জামায়াতের নতুন ভূমিকা, জুলাই চার্টার ও গণভোট–সংক্রান্ত বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |