| বঙ্গাব্দ

বিষ খাওয়ার শপথ’ ও ফজলুর রহমানের বীরত্বপূর্ণ বিজয়: হাওরাঞ্চলে জামায়াতকে হারিয়ে ধানের শীষের জয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-02-2026 ইং
  • 3548280 বার পঠিত
বিষ খাওয়ার শপথ’ ও ফজলুর রহমানের বীরত্বপূর্ণ বিজয়: হাওরাঞ্চলে জামায়াতকে হারিয়ে ধানের শীষের জয়
ছবির ক্যাপশন: ফজলুর রহমানের বীরত্বপূর্ণ বিজয়

বিষের পেয়ালা নয়, জয়ের হাসি: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ভূমিধস বিজয়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অনেক সময় নেতার বজ্রকঠিন শপথ জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে ঠিক এমনটিই ঘটেছে। নির্বাচনের আগে "জামায়াত-শিবির পাস করলে বিষ খাব" বলে যে সাহসী ঘোষণা দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, শেষ পর্যন্ত তাকে বিষের পেয়ালা স্পর্শ করতে হয়নি। বরং ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি পেয়েছেন এক স্মরণীয় বিজয়।

ভোটের ব্যবধান ও ফলাফল

নির্বাচন কমিশন ও বাসস (BSS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট (মতান্তরে ১,৩২,৫৫৩)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৭,৮২৯ ভোট (মতান্তরে ৫৫,৬৪৬)। ফজলুর রহমান প্রায় ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে হাওরাঞ্চলের রাজনীতির একক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেন।

‘বিষ খাওয়ার ঘোষণা’ ও প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থানের পর যখন জামায়াত-শিবির ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কতিপয় নেতা এই বিপ্লবকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালান, তখন থেকেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানান ফজলুর রহমান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সমকক্ষ কোনো আন্দোলন হতে পারে না।

এই আদর্শিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি প্রকাশ্যে জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে যদি স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি জয়লাভ করে, তবে তিনি আত্মাহুতি দেবেন (বিষ খাবেন)। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক রেখাচিত্র

বাংলার রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল এ ভূখণ্ডের মানুষের মর্যাদার লড়াই। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের মতো প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন, ২০২৪-এর আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা ১৯৭১-এর অবিনাশী মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প নয়। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ কেবল প্রতিনিধি নির্বাচন করেনি, বরং তারা জুলাই বিপ্লবের সংস্কার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মাঝে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে।

সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

বিগত দীর্ঘকাল পর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতার বিজয়ে এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,

"জনগণ প্রমাণ করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অটল। এই বিজয় আমার এলাকার মানুষের যারা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেনি।"

ইইউ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশের নির্বাচনকে 'প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ' হিসেবে অভিহিত করেছে। অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, ২০২৬-এর এই সংসদ হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।


সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), যুগান্তর আর্কাইভ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (ইসি) এবং প্রথম আলো অনলাইন।

বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত তেজ ও রাজনৈতিক আদর্শকে কেন্দ্র করে তৈরি। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে দীর্ঘদিন পর বিএনপির এই পুনরুদ্ধার প্রমাণ করে যে, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো অটুট। বিশেষ করে তার 'বিষ খাওয়ার' চরমপন্থী ঘোষণা ভোটারদের ইমোশনাল কানেকশনে বড় প্রভাব ফেলেছে, যা ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency