প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিল পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিন মামলার রায়। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনটি পৃথক মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আদালত এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হলো।
আদালতের রায়ে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে তিনটি মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয়: একটি মামলায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: আরেকটি মামলায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
অন্যান্য আসামি: শরীফ আহমেদ ছাড়াও সাবেক মন্ত্রণালয় ও রাজউকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মো. খুরশীদ আলম ছাড়া বাকি সবাই পলাতক রয়েছেন।
গত ২৩ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছিল। পলাতক থাকায় শেখ হাসিনাসহ পরিবারের পক্ষে কোনো আইনজীবী যুক্তিতর্কে অংশ নেননি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল এনেছে। এই রায়কে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উচ্চ পর্যায়ের জবাবদিহিতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে:
গণপূর্ত/রাজউক দুর্নীতি (১৯৬০-২০২৫): ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (পরবর্তীতে রাজউক)-এর মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ স্বাধীনতার আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ক্ষমতার শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এত কঠোর পদক্ষেপ সাধারণত এসেছে অ-দলীয় বা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। পূর্বাচল প্রকল্পের এই দুর্নীতি মামলাটি সেই ধারাকেই অনুসরণ করে। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বরাবরই ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে এই ধরনের দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে।) **
রাজনৈতিক বিচার (২০০৭-২০০৮): এর আগে ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশের দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজকের এই রায় সেই সময়ের রাজনৈতিক জবাবদিহিতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। (২০২৫ প্রেক্ষাপট: ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দাবি করেছিলেন যে শেখ হাসিনার বিচার তাঁর 'নিজের গড়া আদালত ও ট্রাইব্যুনালেই' হচ্ছে, তার একদিন পরেই এই উচ্চ-পর্যায়ের রায় ঘোষণা প্রমাণ করে যে অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দিতে প্রস্তুত।)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় নির্বাচনকালীন সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ওপর নৈতিক ও আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই মামলার ফলাফল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
১. ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের রায়ের কপি ও কোর্ট রিপোর্টার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য (২৭ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র ও কার্যবিবরণী। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিচার ও দুর্নীতির ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |