| বঙ্গাব্দ

তেহরানের আকাশে রুশ মিগ-২৯: বহরে যোগ হলো নতুন যুদ্ধবিমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-11-2025 ইং
  • 2398745 বার পঠিত
তেহরানের আকাশে রুশ মিগ-২৯: বহরে যোগ হলো নতুন যুদ্ধবিমান
ছবির ক্যাপশন: তেহরানের আকাশে রুশ মিগ-২৯

তেহরানের আকাশে রুশ মিগ-২৯: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান-রাশিয়া সামরিক জোটের নতুন বার্তা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পশ্চিমের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক জোট গভীর হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে, তেহরানের আকাশে সম্প্রতি একটি রুশ মিগ-২৯ (MiG-29) ফাইটার জেটকে উড়তে দেখা গেছে। ইরানের বিমান বাহিনী বার্তা সংস্থা তাসনিমকে এই খবর নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধবিমানটির দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং সনিক বুমের শব্দ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, যার একাধিক ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

স্থানীয় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ফাইটার জেটটি ইরানের বিমান বাহিনীর। বিমান বাহিনী বিবৃতিতে বলেছে, এটি তাদের বহরে কয়েকদিন আগেই যুক্ত হয়েছে এবং তেহরানের ওপর দিয়ে এটি একটি রুটিন ফ্লাইট পরিচালনা করছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সামরিক বহর ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য

বেশ কিছুদিন ধরেই একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসছিল যে, রাশিয়া থেকে ইরান মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের একটি বহর হাতে পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানগুলো ফার্স প্রদেশের সিরাজ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা আছে। তেহরানের আকাশে এর রুটিন ফ্লাইট পরিচালনা সেই গুঞ্জনকেই নিশ্চিত করল।

  • সনিক বুমের শব্দ: দ্রুতগতিতে শব্দের চেয়ে বেশি বেগে উড়লে ফাইটার জেট থেকে যে প্রচণ্ড শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয়, স্থানীয়রা সেই সনিক বুমের শব্দ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ইরান-রাশিয়া সামরিক অক্ষ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০-২০২৫)

রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের আগমন ইরানকে সামরিকভাবে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। এটি ইরানের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছিল।

  • পশ্চিমা নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি (১৯৭০-১৯৯০): ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের বিমান বাহিনী ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এফ-১৪ (F-14) টমক্যাটসহ পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বিপ্লবের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে ইরান সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সেই সময়ের সামরিক পরিবর্তনের প্রতীক।

  • জোটের গভীরতা (২০১০-২০২৫): সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর, মস্কো এবং তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অভূতপূর্ব গভীরতা লাভ করেছে। ইরান রাশিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম (যেমন ড্রোন) সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক বিমান লাভ করা এই অক্ষের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: পশ্চিমা চাপের মুখে সামরিক প্রযুক্তি আমদানি করে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার ইরানের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এই মিগ-২৯ চুক্তির মাধ্যমে পূর্ণতা পেল।) **

এই যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনী পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছে একটি বার্তা যে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার সামরিক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে এবং রাশিয়ার মতো কৌশলগত অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে বদ্ধপরিকর।


সূত্র

১. ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবর। ২. আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানের রাশিয়া-ইরান সামরিক চুক্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। ৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধবিমানের ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের মন্তব্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency