| বঙ্গাব্দ

এটিএম আজহারুল ইসলামের ঘোষণা: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জামায়াত, সংবিধান পুরোপুরি ইসলামিক নয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-12-2025 ইং
  • 3045149 বার পঠিত
এটিএম আজহারুল ইসলামের ঘোষণা: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জামায়াত, সংবিধান পুরোপুরি ইসলামিক নয়
ছবির ক্যাপশন: এটিএম আজহারুল ইসলামের ঘোষণা

সংবিধান ইসলামভিত্তিক নয়’: আগামী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়: আজহারুল ইসলামের ঘোষণা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে, তবে দলটি ইসলামের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলামের বক্তব্য: "বর্তমান আইন মানুষের তৈরি ও বর্তমান সংবিধান পুরোপুরি ইসলাম ভিত্তিক নয়।"

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি তার দলের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: রাষ্ট্রধর্ম ও সাংবিধানিক পরিবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও সংবিধানের মূলনীতি নিয়ে বিতর্ক বহু পুরোনো। ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের পর থেকেই এই ভূখণ্ডের জনগণের মধ্যে ধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা দেখা যায়।

  • সংবিধানের মূলনীতি (১৯৭২): বাংলাদেশের মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

  • সামরিক শাসন ও রাষ্ট্রধর্ম: সামরিক শাসনের সময়কালে, ১৯৮৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

  • গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ও বিতর্ক: ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র ফিরে এলেও, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক কখনোই শেষ হয়নি। জামায়াতে ইসলামী বরাবরই ইসলামের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষে দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের নির্বাচনের আগে আজহারুল ইসলামের এই বক্তব্য সেই দাবিকেই নতুন করে সামনে আনল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের ঘোষণা জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংবিধানিক কাঠামোর ইসলামিকীকরণ ঘটাতে চায়।

রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনকল্যাণ

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে জামায়াতের এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে দলটি একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে, তেমনি তাদের মূল রাজনৈতিক আদর্শ (ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা) থেকে সরে আসেনি, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার করছে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ। এ সময় রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।

নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এটিএম আজহারুল ইসলামের ঘোষণা জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারের মূল বার্তা কী হতে চলেছে, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিল।


সূত্র ও বিশ্লেষণ

সূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের বক্তব্য (নীলফামারী, কিশোরগঞ্জ, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. নীলফামারী জেলা জামায়াতের প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ৩. বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি ও সংশোধনীসমূহ (১৯৭২, ১৯৮৮)।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্লেষণ: এটিএম আজহারুল ইসলামের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দাবিটিকে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। তার মন্তব্য, "বর্তমান আইন মানুষের তৈরি ও বর্তমান সংবিধান পুরোপুরি ইসলাম ভিত্তিক নয়," জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাসের (১৯৫০-২০২৫) ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখে। যদিও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, জামায়াত পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবিধানিক পরিবর্তন চায়। এই ধরনের ঘোষণা নির্বাচনের আগে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ভোটারদের সংহত করতে সাহায্য করবে। তবে এই অঙ্গীকার দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের প্রেক্ষাপটে কী ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency