আওয়ামী লীগের ব্যর্থ কৌশলকেই বড় অস্ত্র ভাবছে বিএনপি’: সুস্থ প্রতিযোগিতা না দেখে ঘৃণা ও শত্রুতা কেন? —ড. মির্জা গালিব
ঢাকা: বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সম্পর্ক ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। তিনি মনে করেন, যে কৌশল ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারেনি, বিএনপি এখন সেই ‘ফেইল্ড স্ট্র্যাটেজি’-কেই নিজেদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মনে করছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
ড. মির্জা গালিব বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে সরিয়ে একটি সুস্থ দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক সিস্টেম তৈরি করা। তিনি জোর দেন যে, এই সিস্টেমে পারস্পরিক সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দলকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি কামনা করেন, "আওয়ামী লীগ ভার্সেস বিএনপি/জামায়াতের যে রকম দা-কুমড়ো সম্পর্ক ছিল, বিএনপি ভার্সেস জামায়াতের মধ্যে সে রকম বাজে সম্পর্ক যেন আর না হয়।"
ড. গালিবের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিএনপি ও জামায়াত দুটো দলই এখন ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে। শুধু আবেগী সমর্থকরাই নয়, বড় বড় নেতারাও এই তিক্ততা বাড়াতে ইন্ধন যোগাচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন:
শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাত্র রাজনীতির সীমা ভুলে তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাও একেবারে ব্যক্তি পর্যায়ে তারেক রহমানকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির সকল পর্যায় থেকে জামায়াতকে আওয়ামী লীগের ভাষায় মুক্তিযুদ্ধ আর '৭১ নিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "সেই একই লাইনে যোগ দিলেন তারেক রহমান নিজেও। যে স্ট্র্যাটেজি দিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি এখন অলআউট সেই ফেইল্ড স্ট্র্যাটেজিকেই নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভাবতেছে।"
দেশের বর্তমান তারুণ্যের শক্তি বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ এর ওপর জোর দিয়ে মির্জা গালিব বলেন, এই কর্মক্ষম জনসম্পদকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারলে আগামী এক-দুই দশকের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং দুটি বড় সিভিল দলের উপস্থিতি অপরিহার্য।
পোস্টের শেষে তিনি বিএনপি এবং জামায়াত নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান:
"প্রিয় বিএনপি এবং জামায়াত নেতৃবৃন্দ—আমাদের পোস্ট হাসিনা গণতন্ত্রে আমরা আপনাদের একজনের সাথে আরেকজনের সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখতে চাই, ঘৃণা আর শত্রুতা নয়। দয়া করে শুধু এই একটা নির্বাচনে কীভাবে জিততে হবে—এটা নিয়ে না ভেবে দেশটা আগামী দশ বছর পর কোথায় যাবে—চোখটা সেখানেও একটু রাখেন প্লিজ।"
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |