প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি জানাতে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সাক্ষাতের পরই তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত সময় নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে সিইসির একটি ভাষণ রেকর্ড করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে। এই ভাষণেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাছউদ জানান, আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যায় অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ভাষণ রেকর্ড করা হলেও আজ তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা কম। ইসি সম্ভবত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য দিন হিসেবে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির যেকোনো একটি দিনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনজন নির্বাচন কমিশনার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে— গণভোটের রায়ে সংবিধানসহ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর থেকে সংসদ নির্বাচন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল (২০১১) এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পর এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যে সিইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অন্যান্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছেন। তারই অংশ হিসেবে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
তফসিল ঘোষণার আগের প্রস্তুতি যাচাই করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার নির্বাচনের প্রধান আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনীর গেজেট জারি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনীর গেজেটটি গতকাল রাত পর্যন্ত জারি হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, "আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তফসিল ঘোষণার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে ইসি।"
তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণার পরপরই আসন বিন্যাস, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রজ্ঞাপন, মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল ও আইনশৃঙ্খলা সেলের মতো ২০টির মতো পরিপত্র ধারাবাহিকভাবে জারি করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনীর গেজেটও দ্রুত জারি হয়ে যাবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। দেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬৬টি এবং ভোটকক্ষ দুই লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫টি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় এবার একই ভোটকক্ষে দুটি করে ভোট দেওয়ার স্থান নির্মাণ করা হচ্ছে। যেসব ভোটকক্ষে দুটি গোপন স্থান নির্মাণের অবকাঠামো সুবিধা নেই, সেসব কেন্দ্রে বাড়তি ভোটকেন্দ্র করা হবে। এই হিসাবে নির্বাচনে ভোটকক্ষের সংখ্যা আরও বাড়বে।
এছাড়াও, প্রবাসীদের সুবিধার জন্য এ কমিশন আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে, যা নির্বাচনের ইতিহাসে একটি বড় পদক্ষেপ। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদালতে ৩০টির বেশি রিট থাকলেও, কমিশন তফসিল ঘোষণা নিয়ে কোনো জটিলতা দেখছে না।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী মন্তব্য করেছেন, "আমার মনে হয় নির্বাচন কমিশন ভোটের জন্য প্রস্তুত। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রস্তুত। তারা অনেক দিন ধরে নির্বাচন চাইছে। এখন একটি ভালো ভোট হলে তা সবার জন্য সুখকর হবে।" তিনি বলেন, দলগুলো আচরণবিধি অনুসরণ না করলে ইসির চ্যালেঞ্জ বাড়বে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র।
নির্বাচন কমিশনারদের প্রেস ব্রিফিং।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের তথ্য।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যের বক্তব্য।
যুগান্তর পত্রিকা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |