প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তার বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, শ্বাশুড়িকে দেখতে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। তার এই আগমন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে যে, তিনি কি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন কি না।
ডা. জোবাইদা রহমানের দেশে ফেরা এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে প্রশ্ন করা হয়েছিল তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিএনপির তরুণ নেতা ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালকে।
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: ব্যারিস্টার হেলাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, "ডা. জোবাইদা রহমান রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করবেন কি করবেন না, এটি উনার একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়।"
চিকিৎসা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: মীর হেলালের মতে, ডা. জোবাইদা রহমান এসেছেন মূলত তার শাশুড়ি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, বিশেষ করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য। তিনি একজন কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে লন্ডন থেকে চিকিৎসা টিম অ্যারেঞ্জ করে বাংলাদেশে এসেছেন।
চিকিৎসক সমন্বয়: ব্যারিস্টার হেলাল আরও বলেন, "জোবাইদা এসেছেন শুধুমাত্র খালেদা জিয়াকে কিভাবে সুস্থ করা যায় তার জন্য এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা চিকিৎসকদের সমন্বয় করার জন্য। এই সমন্বয় করা আমাদের পক্ষে বা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে করা সম্ভব না। এজন্য ডা. জোবাইদা রাহমান আসছেন বলে আমি মনে করি।"
অনাড়ম্বর আগমন: তিনি উল্লেখ করেন যে, ডা. জোবাইদা রহমান অনাড়ম্বরভাবে দেশে এসেছেন এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে সবাইকে তাকে কেন্দ্র করে কোনো ভোগান্তি সৃষ্টি করতে মানা করা হয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে দলের এই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রহমানের পরিবারের মানসিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
"লৌকিকতা তারেক রহমান ও তার পরিবার কখন বিশ্বাস করে না।"
তারেক রহমান কেন এখনও দেশে ফিরছেন না, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মীর হেলাল আবেগ এবং বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
"ধরেন উনার মা অসুস্থ তিনি দেশে আসলেন। এখানে একটি ইমোশান কাজ করে। সাত আট দিন ধরে ঢাকা বন্ধ হয়ে যাবে। ম্যাডামের চিকিৎসা তো দূরের কথা অন্যান্য সকল চিকিৎসা সেবা তো বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ মানুষকে তো থামাতে পারবেন না। কারণ এতো দিন পর তাদের নেতা আসবে তারা এক নজর দেখতে যাবে এটা তো স্বাভাবিক।"
অর্থাৎ, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক জনসমাগম ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর জন্যই তার পরিবার এখন পর্যন্ত কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্ন এখন দলটির কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়। ডা. জোবাইদা রহমানের আগমনকে আপাতদৃষ্টিতে পরিবার ও চিকিৎসা সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, তারেক রহমানের স্ত্রী হওয়ায় তার প্রতিটি পদক্ষেপই নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করছে। ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর জিয়া পরিবার যেভাবে দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই পরিবারের সদস্যদের যেকোনো গতিবিধিই দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। ব্যারিস্টার মীর হেলালের বক্তব্য তারেক রহমানের পরিবারের 'লৌকিকতা বর্জন' এবং জনদুর্ভোগ এড়ানোর মানসিকতাকে তুলে ধরে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
১. সাম্প্রতিক সময়ে একটি টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালের বক্তব্য। ২. খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্র।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |