প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তফসিল ঘোষণার পর থেকে চলমান নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। বিএনপি তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার জন্য এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এটিকে কেবল একটি সাধারণ ভোটযুদ্ধ নয়, বরং "বাঁচা-মরার সংগ্রাম" হিসেবে দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে, চট্টগ্রাম-১০ আসনে দলের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার প্রথম মতবিনিময় সভায় এই সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেলে নগরীর মেহেদীবাগস্থ নিজ বাসভবনে ৮নং শুলকবহর ও ৪২নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি সর্বোচ্চ ঐক্য বজায় রাখার জোর আহ্বান জানান।
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, "জাতি আমাদের সঙ্গে আছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কোনো বিভেদ নয়।" তিনি এই নির্বাচনকে শুধুমাত্র বিএনপি নয়, বরং "বাংলাদেশের বাঁচা-মরার সংগ্রাম, গণতন্ত্রের বাঁচা-মরার সংগ্রাম" এবং "আগামী দিনের দেশ গড়ার সংগ্রাম" হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "গণতন্ত্রের পথ থেকে বিএনপি কখনো বিচ্যুত হয়নি। আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। আর শহীদ জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।"
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ইঙ্গিত দেন:
১৯৭৫ সালের বাকশাল প্রতিষ্ঠা: স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ- বাকশাল) প্রবর্তন করা হয়। এই পদক্ষেপকে সে সময় গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হিসেবে দেখে বিএনপি।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা (১৯৭৮-৭৯): ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর সামরিক শাসনের মাঝে থাকা সত্ত্বেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ৩০ এপ্রিল এক ঘোষণায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। ফলস্বরূপ, ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘদিনের একদলীয় বা সামরিক শাসনের পর দেশে পুনরায় সংসদীয় ধারার সূচনা হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে (১৬ অক্টোবর, ২০১৭) তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বিএনপির সাথে সংলাপে বলেছিলেন যে, "জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।"
গণতন্ত্রের জন্য ১৬ বছরের আন্দোলন (২০০৯-২০২৫): আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, "গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।" (তিনি এই কথাটি পূর্বে ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কৃষক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও বলেছেন)।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ, তারেক রহমানের আদর্শের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।" তিনি জনগণকে ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে বিএনপি সক্ষম হবে। (এই ধরনের আশাবাদ তিনি ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কৃষক দলের অনুষ্ঠানেও ব্যক্ত করেছেন)।
এদিন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের অন্যান্য সংসদীয় আসনের প্রার্থীরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করেন।
মতবিনিময় সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন:
মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক: কাজী বেলাল
মহানগর বিএনপির সদস্য: মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, কামরুল ইসলাম
বিএনপি নেতা: আশরাফ চৌধুরী, গোলাম কাদের চৌধুরী নোবেল
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব: জমির উদ্দিন নাহিদ
শুলক বহর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক: শামসুল আলম
৪২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আহ্বায়ক: শায়েস্তা উল্লা চৌধুরী, সদস্য সচিব হাসান ওসমান
মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক: আসিফ চৌধুরী লিমিনসহ অন্যান্য নেতারা।
যুগান্তর পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত কন্টেন্ট।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থীর মতবিনিময় সভা থেকে প্রাপ্ত তথ্য।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাকশাল প্রবর্তন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত গুগল অনুসন্ধান ও ঐতিহাসিক তথ্য।
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কৃষক দলের অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য।
অক্টোবর, ২০১৭ তে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে সিইসি কে এম নুরুল হুদার বক্তব্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |